দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মস্করা করতে গিয়ে সাসপেনসনের খাঁড়া নেমে এল বেঙ্গালুরুর পুলিশ কনস্টেবলের ওপর। গদাইলশকরি চালচলন ও নিয়মিত দেরি করে ডিউটিতে যোগ দেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে বেঙ্গালুরুর জয়ানাগারা থানার ইন্সপেক্টর ই ইয়েরিস্বামী চারজনের সঙ্গে কনস্টেবল শ্রীধর গৌড়াকে শো–কজের চিঠি ধরিয়েছিলেন। ইনিয়েবিনিয়ে নানা অজুহাত সম্বলিত একটি উত্তরই হয়ত প্রত্যাশা করেছিলেন ইন্সপেক্টর। কিন্তু তার বদলে তিনি বিস্মিত হয়ে দেখলেন শ্রীধর গৌড়ার চিঠিতে লেখা রয়েছে, ''আমি আপনার মতো হোটেলে খাই না আর থানার ওপরেও ঘুমোই না।''
ব্যাপারটা অবশ্য এইটুকুতেই থেমে যায়নি। কনস্টেবল গৌড়া তার উপরওয়ালার হাতে চিঠিটি পৌঁছে দেওয়ার আগে তুলে দিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমের হাতে। অসম্ভব দ্রুততায় সেই চিঠি ছড়িয়ে পড়েছে স্যোশাল মিডিয়ায়। ফলে যিনি কারণ জানতে চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন সেই ইয়েরিস্বামী'র আগেই গৌড়ার বক্তব্য জেনে গিয়েছে নেটিজেনরা। কন্নর ভাষায় লেখা চিঠিতে দেরি হওয়ার কারণ হিসেবে গৌড়া জানিয়েছেন ''আমি যদি ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ ও ডিনার রেস্তোরাঁয় করতে পারতাম এবং ফিরে এসে পুলিশ স্টেশনের ওপরে ঘুমোতে পারতাম তাহলে কখনই কাজে আসতে আমার দেরি হত না এবং প্রতিদিন সকাল আটটাতেই আমি হাজিরা দিতে পারতাম।'' একই সঙ্গে অবশ্য অভিযুক্ত কনস্টেবল জানিয়েছেন যে তাকে তার বয়স্ক বাবা–মা ও পরিবারকে দেখভাল করতে হয়।
খুব স্বাভাবিক কারণেই এমন আচরণ হজম করতে পারেননি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। বেঙ্গালুরুর দক্ষিণ ডিভিশনের পুলিশের ডেপুটি কমিশনার কে আন্নামালাই যদিও সংবাদমাধ্যমকে জানান, যে কনস্টেবলকে রসিকতা করার জন্য সাসপেন্ড করা হয়নি, সাসপেন্ড করা হয়েছে 'অনিয়মানুবর্তী আচরণের' জন্য। সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ডেপুটি কমিশনার বলেন, ''নিশ্চিত ভাবেই ওই উত্তরের জন্য কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করা হয়নি। এর আগেও অন্য কারণে তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। ইন্সপেক্টর ইয়েরিস্বামী যথেষ্ট দক্ষ প্রশাসক। কনস্টেবল তার অভিযোগ সরাসরি সংবাদ মাধ্যমের কাছে পৌঁছে দিল ইয়েরিস্বামীকে চিঠিটি পড়ার সুযোগ না দিয়ে।''
আন্নামালাই আরও জানান, সংবাদ মাধ্যমের এক অংশের থেকে সমলোচিত হয়ে কনস্টেবল গৌড়া কিছুটা পিছু হটে জানিয়েছে, যে তার ব্যঙ্গোক্তিটি সাব–ইন্সপেক্টরের উদ্দেশে করা, ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে তার কিছু বলার নেই। কিন্তু কারণ দর্শানোর চিঠিটি দিয়েছিল ইন্সপেক্টর সাব–ইন্সপেক্টর নয়। সাব–ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ যদি সত্যি প্রমাণিত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ডেপুটি কমিশনার।