
শেষ আপডেট: 1 September 2022 05:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচনের 9Congress president election) নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকেই দলের অভ্যন্তরে বিবাদ আরও মাথাচাড়া দিয়েছে। বিক্ষুব্ধ জি-২৩ গোষ্ঠীর (G-23) একাধিক নেতা (Leaders) দাবি তুলেছেন, দলের ওয়েবসাইটে ভোটার তালিকা (Voter list) টাঙিয়ে দিতে হবে। যাতে দেশবাসী জানতে পারেন, কাদের ভোটে নির্বাচিত হবেন কংগ্রেসের সভাপতি।
এই দাবিতে সুর চড়িয়েছেন পাঞ্জাবের নেতা মনীশ তিওয়ারি, হিমাচলপ্রদেশের আনন্দ শর্মা, কেরলের শশী থারুর এবং তামিলনাড়ুর কার্তি চিদম্বরমরা। এঁদের মধ্যে শশী ও মনীশ কংগ্রেস সভাপতি পদের নির্বাচনে লড়াই করতে পারেন বলে তাঁদের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই নেতাদের বক্তব্য, কংগ্রেসের সভাপতি পদে কাউকে প্রার্থী হতে গেলে দশ জন ভোটারকে তাঁর সমর্থক হিসাবে মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করতে হয়। ভোটার তালিকা হাতে না পেলে কী করে জানা সম্ভব কে ভোটার আর কে নয়। তাঁদের আশঙ্কা, ভুল করে ভোটার নয় এমন ব্যক্তিকে সমর্থক দাবি করে মনোনয়ন পেশের পর তা বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছেই।
কিন্তু কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান অনিল মিস্ত্রির বক্তব্য, এটা দলের ভোট। এখানে ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কোনও সুযোগ নেই। ২৮টি প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি এবং ২৩টি কমিটির সদস্যরা ভোটার। কেউ প্রার্থী হলে তাঁকে ভোটার তালিকা সরকারিভাবে দল সরবরাহ করবে। ওয়েবসাইটে তোলার প্রশ্ন ওঠে না।
গত রবিরার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ভোটের নির্ঘণ্ট ঠিক করা হয়। সেখানে আনন্দ শর্মা ভোটার তালিকা প্রকাশের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল বিভিন্ন প্রদেশ কংগ্রেস মিলিয়ে যে নয় হাজার সদস্য সভাপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন তাঁরা কারা? তাঁদের নাম জানব কী করে? কেন ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে না।
সূত্রের খবর, শর্মার বক্তব্য শুনেই কেউ রা কাড়েননি। ওই বৈঠকের দু’দিন আগেই গুলাম নবি আজাদ দল ছাড়ার কথা জানিয়ে সনিয়া গান্ধীকে যে চিঠি লেখেন তাতে সভাপতি নির্বাচনকে প্রহসন বলে উল্লেখ করেন।
কংগ্রেস সভাপতি পদে শেষবার নির্বাচন হয়েছিল ২০০০ সালে। সেবার সনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হন উত্তরপ্রদেশের নেতা জিতেন্দ্র প্রসাদ। তিনি মাত্র ৯৪ ভোট পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কারচুপির অভিযোগ ওঠে। সেবার জিতেন্দ্র প্রসাদ দাবি তুলেছিলেন, দলের ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। পরাজয়ের পর তাঁর বক্তব্য ছিল, বিচিত্র নির্বাচন। কারা ভোটার সেটাই জানতে পারলাম না। ফলে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করারই সুযোগ পেলাম না।
মনীশ তিওয়ারি প্রশ্ন তুলেছেন ‘কেন ভোটার তালিকা সংগ্রহে জন্য কাউকে দেশের প্রতিটি প্রদেশ কংগ্রেস অফিসে যেতে হবে? এটা তো কোনও ক্লাবের নির্বাচনেও হয় না। স্বচ্ছতার স্বার্থে, আমি কংগ্রেসের ওয়েবসাইটে ভোটারদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করার অনুরোধ করছি।
প্রাক্তন অর্থ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা লোকসভার এমপি কার্তি চিদম্বরমের বক্তব্য, প্রতিটি নির্বাচনের জন্য একটি ভোটার তালিকা প্রয়োজন।’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘ভোটার তালিকা তৈরির কাজটিও স্বচ্ছ হওয়া চাই।’ প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা শশী এই ইস্যুতে পাশে দাঁড়িয়েছেন মনীশ ও কার্তির।
এক ধাক্কায় অনেকটাই দাম কমল বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের! জানুন কোথায় কত হল