
শেষ আপডেট: 27 August 2022 08:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুলাম নবি আজাদের দলত্যাগ ঘিরে কংগ্রেসের (Congress) ঘরোয়া কোন্দল তুঙ্গে উঠেছে। আজাদ দল ছাড়ার কারণ হিসাবে সনিয়া গান্ধীকে লেখা চিঠিতে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi)। বলেছেন, রাহুলের নাম করে অপরিপক্ক নেতৃত্ব, শিশুসুলভ আচরণ, বড়দের গুরুত্ব না দেওয়া ইত্যাদি গুচ্ছ অভিযোগ করেছেন তিনি। সনিয়াকেও আক্রমণ করেছেন রাহুলকে নেতা হিসাবে চাপিয়ে দেওয়ায়।
আজাদ দল ছাড়ার পর গান্ধী পরিবারের তরফে একজনও মুখ খোলেননি এখনও। সনিয়া, রাহুল, প্রিয়াঙ্কা, তিনজনই বিদেশে। সনিয়া স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিদেশে গিয়েছেন। মায়ের সঙ্গে গিয়েছেন রাহুল প্রিয়াঙ্কা।
তবে তাঁদের পারিষদেরা বসে নেই। গতকাল আজাদকে যে ভাষায় প্রতি আক্রমণ করা হয়েছে তা নিয়ে শুধু কংগ্রেস নয়, জন্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লাও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আদাজের দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের নিন্দা করতে গিয়ে কংগ্রেসের নেতা জয়রাম রমেশ টুইটে বলেন, ‘জিএনএ (গুলাম নবি আজাদ)-এর ডিএনএ-তে বদল ঘটে গিয়েছে। তিনি মোদীফায়েড (মোদীর অনুগত) হয়েছেন।’ অর্থাৎ কংগ্রেস সরকারিভাবেই আজাদকে বিজেপির লোক বলে গাল পেরেছে।
কংগ্রেসের এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করে ফারুক বলেন, আজাদ প্রকৃত দেশপ্রেমী, জাতীয়তাবাদী নেতা। তাঁর সংসদীয় জীবনের ভাল কাজের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু এই কারণে তাঁকে মোদীর লোক বলাটা ঘোর অন্যায়।
কাল ঘরে বসে দেখুন নয়ডার সেই টুইন টাওয়ার ভেঙে ফেলার দৃশ্য, জানুন রহস্য
আজ দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন কংগ্রেস নেতা মনীশ তিওয়ারি (Manish Tiwari)। কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ নেতাদের যে গ্রুপ-২৩ তৈরি হয়েছে মনীশ সেটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা, তাই-ই শুধু নন, বাকিরা মুখ বন্ধ করে ফেললেও পাঞ্জাবের এই নেতা ধারাবাহিকভাবে গান্ধী পরিবার, বিশেষ করে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে সরব। আজাদ সম্পর্কে মন্তব্যকারীদের তিনি রাহুল গান্ধীর পিয়ন আখ্যা দিয়ে আজ বলেন, এদের একটা পুরসভার ওয়ার্ড নির্বাচনের ক্ষমতা নেই। অথচ, এমন ভাব করছে যেন, এঁরাই কংগ্রেস।
ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, মনীশ শুধু জয়রামকে নিশানা করতে চাননি। তাঁর তালিকায় আছেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কেসি বেনুগোপাল, অম্বিকা সোনি প্রমুখ। যে কোনও বিষয়ে এখন আগ বাড়িয়ে গান্ধী পরিবার নির্দোষ বলে গলা ছাড়েন এই নেতারা। রাহুল গান্ধীও এমনই কতিপয় নেতার কথাই শোনেন বলে দলে অভিযোগ।
প্রসঙ্গত, সনিয়া, রাহুলরা রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী গেহলটকে কংগ্রেস সভাপতি করতে চান জানাজানি হওয়ার পর শোনা যাচ্ছে মনীশ ওই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। জি-২৩-এর নেতারা শশী থারুরের নামও ভেবেছেন। অর্থাৎ গেহলটকে নির্বাচনের মুখে ঠেলে দিয়ে গান্ধী পরিবারকে চ্যালেঞ্জ জানানো।
আজাদকে যে ভাষায় দল আক্রমণ করেছে তার বিরোধিতা করে মনীশ বলেন, উত্তর ভারতের মানুষ, যারা হিমালয়ের শীর্ষে বাস করে, তারা আবেগপ্রবণ একইসঙ্গে আত্মবিশ্বাসী হন। হাজার বছর ধরে, তাঁরা হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। এসব লোকের ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া উচিত নয়।
মনীশ আজ আরও বলেন, দু’বছর আগে আমরা ২৩ জন কংগ্রেস নেতা সভাপতি সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলাম, কংগ্রেসের অবস্থা উদ্বেগজনক, যা বিবেচনা করা দরকার। বহু মানুষ ও পরিবার তাঁদের রক্ত দিয়ে লালন করেছে কংগ্রেসের বাগান। কিন্তু আজ কংগ্রেসের যা অবস্থা তাতে মনে হয় না যে এটা দল দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল।