দ্য ওয়াল ব্যুরো : ফের কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের বিরুদ্ধে সরব হলেন পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং (Amarinder Singh)। শনিবার তিনি বলেন, কংগ্রেস নেতৃত্ব পাঞ্জাবের পরিস্থিতি সামলাতে পারছে না। সেকথা চাপা দেওয়ার জন্য নেতারা হাস্যকর মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন। সম্প্রতি কংগ্রেস হাইকম্যান্ড জানায়, ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং-এর নেতৃত্বে অনাস্থা জানিয়ে পাঞ্জাবের কয়েকজন বিধায়ক চিঠি দিয়েছিলেন। অমরিন্দর সিং প্রশ্ন তোলেন, ঠিক কতজন বিধায়ক চিঠি দিয়েছিলেন? তাঁর দাবি, কংগ্রেসের দুই নেতা হরিশ রাওয়াত ও রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা দু'রকম সংখ্যা বলছেন।
পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "সুরজেওয়ালা বলেছেন, পাঞ্জাবের ৭৯ জন কংগ্রেস বিধায়কের মধ্যে ৭৮ জনই আমার পদত্যাগ চেয়েছিলেন। মজার কথা হল, একদিন আগেই হরিশ রাওয়াত বলেন, ৪৩ জন বিধায়ক আমার বিরুদ্ধে চিঠি লিখেছেন।"
ক্যাপটেন বলেন, "এই হল দলের অবস্থা। নেতারা মিথ্যা কথা বলার ব্যাপারেও নিজেদের মধ্যে একমত হতে পারেন না।" অমরিন্দরের দাবি, চাপের মুখে পড়ে ৪৩ জন বিধায়ক হাইকম্যান্ডের কাছে তাঁর অপসারণ চেয়েছিলেন।
এর আগেই পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, দল তাঁকে অপমান করেছে। তাই তিনি কংগ্রেস ত্যাগ করবেন। সম্প্রতি তিনি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন। তখন অনেকের ধারণা হয়, তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। যদিও ক্যাপটেন নিজে পরে জানিয়ে দেন, তিনি বিজেপিতে যাচ্ছেন না।
এর মধ্যে শনিবার প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা কংগ্রেস নেতা নভজ্যোৎ সিং সিধু টুইট করে বলেন, কোনও পদে থাকুন বা না থাকুন তিনি সবসময় প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি ও কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর পাশে থাকবেন।
টুইটে সিধু লিখেছেন, "আমি গান্ধিজি ও শাস্ত্রীজির আদর্শে বিশ্বাসী। পদ পাই বা না পাই, সবসময় রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরার পাশে দাঁড়াব। নেতিবাচক শক্তিগুলি আমাকে পরাজিত করতে চাইছে। কিন্তু ইতিবাচক শক্তির সাহায্যে আমি পাঞ্জাবকে জিতিয়ে দেব।"
গত ২৮ সেপ্টেম্বর সিধু পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন। তিনি বলেন, রাজ্যের ভবিষ্যতের সঙ্গে আপস করতে পারবেন না। একটি সূত্রে জানা যায়, চান্নি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে প্রশাসনের শীর্ষপদে এমন কয়েকজনকে নিয়োগ করেছিলেন, যাঁদের সিধুর পছন্দ হয়নি। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন রাজ্যের পুলিশ প্রধান ইকবাল প্রীত সিং সাহোতা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুখজিন্দর সিং রণধাওয়া।
একটি সূত্রে খবর, সাহোতাকে শীঘ্র পুলিশ প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেবেন চান্নি। রণধাওয়া ছিলেন কংগ্রেসে সিধুর প্রতিপক্ষ ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং-এর ঘনিষ্ঠ। তাঁর ভাগ্যে কী ঘটবে জানা যায়নি।