হালদার পরিবারের দাবি, গ্রামে একটি রক্ষাকালী মন্দিরে দীর্ঘ তিনশো বছর ধরে উত্তরাধিকার সূত্রে তাঁরা পুজো করে আসছেন। তাঁরাই সেই মন্দিরের সেবাইত। কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরে সেই মন্দির দখলে নিয়েছে গ্রামের কয়েকজন।

এই মন্দির পরিচালন নিয়ে গন্ডগোল
শেষ আপডেট: 1 July 2025 12:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: বেশ কিছুদিন ধরে মিলছে না মুদিখানার জিনিস, দুধ, সবজি, মাছ এমনকী কাজের লোকও। তাই দারুন সমস্যায় তারকেশ্বরের তেঘরি গ্রামের হালদার পরিবারের সদস্যরা। কাজের লোক না মেলায় চাষের কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য় হয়েছেন। অভিযোগ, সব জেনেও নিশ্চুপ স্থানীয় প্রশাসন।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাঁরা সব জায়গায় জানিয়েছেন কিন্তু কেউ শুনছে না তাঁদের কথা। গ্রামের মুদিখানা জিনিস দিতে না চাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস মিলছে না। কার্যত এক ঘরে করে রাখা হয়েছে তাঁদের। হালদারদের বারোটি পরিবারে শিশু, বৃদ্ধ, মহিলা,পুরুষ মিলিয়ে মোট সদস্য সংখ্যা ৬০ জনের উপর। কারা সামাজিক বয়কটের ফতোয়া দিল,
ভয়ে মুখ খুলতে চাইছে না কেউ। না মুদি দোকান, না দুধ বিক্রেতা, না সবজি বিক্রেতা। এমনকি গৃহ শিক্ষকরাও কিছু বলতে চাইছেন না।
তবে জানা গিয়েছে, মন্দির পরিচালনা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই এই ব্যবস্থা। হালদার পরিবারের অভিযোগ, এলাকার কিছু তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী এই ফতোয়া দিয়ে রেখেছে সকলকে। জলচল সব বন্ধ করে ভাতে মারার জন্য।
হালদার পরিবারের দাবি, গ্রামে একটি রক্ষাকালী মন্দিরে দীর্ঘ তিনশো বছর ধরে উত্তরাধিকার সূত্রে তাঁরা পুজো করে আসছেন। তাঁরাই সেই মন্দিরের সেবাইত। কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরে সেই মন্দির দখলে নিয়েছে গ্রামের কয়েকজন। এমত অবস্থায় আদালতের দ্বারস্থ হয় হালদার পরিবার। একাধিকবার আদালত হালদার পরিবারের পক্ষে রায় দেয়। অভিযোগ সেই রায়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জোর করে মন্দির দখলে রেখেছে গ্রামের কয়েকজন তৃণমূল নেতাকর্মী।
আরও অভিযোগ, শাসক দলের মদত পুষ্ট কয়েকজন হালদার পরিবারকে কোনও জিনিস বিক্রি করা যাবে না বলে ফতোয়া জারি করেছে দোকানে দোকানে। শুধু তাই নয়, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে চাষ আবাদ। কৃষি শ্রমিক থেকে কৃষি জমিতে জল প্রদানকারীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে যাতে হালদার পরিবারকে কোন সুবিধা না দেওয়া হয়। হালদারদের অনেকে বাড়ি বাড়ি পূজা করে সংসার চালান তাদেও পূজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই বিষয়ে বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুশান্ত বেরা বলেন, "এই রকম জঘন্য কাজ তৃণমূলই করতে পারে। আমরা নিন্দা করছি। কী ভয়ঙ্করভাবে তারা বয়কটের শিকার। পুলিশকে বলব,আপনারা বিষয়টি দেখে তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নিন। তা না হলে বিজেপি পথে নামবে।"
তারকেশ্বর বিধায়ক তথা আরামবাগ তৃণমূল জেলা সভাপতি রামেন্দু সিংহরায় বলেন, "বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে নিশ্চয়ই তার ব্যবস্থা করা হবে। আমি ব্লক সভাপতিকে হালদার বাড়িতে যেতে বলেছি। তারা যে সব দোকান থেকে জিনিসপত্র কেনে সেখান থেকে যাতে জিনিস কিনতে পারে তার ব্যবস্থা করে দিতে বলেছি। যদি কেউ দিতে না চায় তারও ব্যবস্থা হবে। সামাজিক বয়কট করা যাবে না। তৃণমূলের কেউ যুক্ত থাকলে সেটাও দেখা হবে। বিজেপির অভিযোগ করা ছাড়া আর কিছু কাজ নেই।"
তারকেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কৃষ্ণা অধিকারী বলেন, "এমন কিছু হয়েছে আমার কাছে কেউ অভিযোগ জানায়নি। যদি অভিযোগ জানায় তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।