দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত সোমবার মনীশ গুপ্ত নামে এক ৩৬ বছর বয়সী ব্যবসায়ী (Businessman) তাঁর দুই সঙ্গীর সঙ্গে গিয়েছিলেন কানপুরে। সেখানে জমি-বাড়ির ব্যবসায়ী মনীশের সঙ্গে তাঁর ব্যবসার এক অংশীদারের দেখা হওয়ার কথা ছিল। অভিযোগ, মাঝরাতের পরে এক পুলিশ ইনসপেক্টর ও গোরখপুরের ছয় পুলিশকর্মী তাঁদের ঘরে ঢুকে পড়েন। তাঁরা মনীশদের জিজ্ঞাসা করেন, এত রাতে তাঁরা হোটেলে উঠেছেন কেন। পরে পুলিশরা মনীশকে বেধড়ক মারতে থাকেন।
মারধরের ফলে গুরুতর আহত হন মনীশ। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেরি করে। পরে মনীশ মারা যান। এই মৃত্যুর কথা জানাজানি হলে দেশ জুড়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মনীশের মৃত্যুর ১৫ ঘণ্টা পরে তাঁর দেহের ময়না তদন্ত হয়। তাতে জানা যায়, আঘাতের ফলে তাঁর মাথা ফুলে গিয়েছিল। কনুইতে ছিল কাটা দাগ। ওপরের ঠোঁটেও ছিল আঘাতের চিহ্ন। এরপরে ছ'জন পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়।
বৃহস্পতিবার চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানান, মারধরের ফলে আহত হয়ে ওই ব্যবসায়ী কোমায় চলে যান। মৃতের স্ত্রী খুনের অভিযোগে এফআইআর করেন। তবে তাতে তিনজন পুলিশকর্মীর নাম করা হয়েছে। একটি সূত্রে জানা যায়, মনীশের স্ত্রী ছ'জন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু এফআইআরে কেন তিনজনের নাম বাদ গিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশকর্তারা মৃতের স্ত্রীকে 'বোঝাচ্ছেন' যাতে তিনি অভিযোগ না করেন। মনীশের স্ত্রী গোরখপুরের জেলাশাসক বিজয় কিরণ আনন্দ এবং পুলিশ প্রধান বিপিন টাডার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তখনই নাকি তাঁকে অভিযোগ করতে বারণ করা হয়। তাঁদের কথোপকথনের ভিডিও রেকর্ড করেন মনীশের এক আত্মীয়।
ভিডিওতে শোনা গিয়েছে, জেলাশাসক 'বোঝাচ্ছেন', মামলা শেষ হতে দীর্ঘদিন সময় লাগে। তাঁর কথায়, "আমি বড় ভাইয়ের মতো পরামর্শ দিচ্ছি, মামলা না করাই ভাল। তাতে অনেকদিন সময় লাগে। আপনি ভাবতেও পারবেন না কত সময় লাগবে।"
এমন সময় শোনা যায়, পুলিশ সুপার টাডা বলছেন, "মনীশের সঙ্গে পুলিশদের কোনও শত্রুতা ছিল না। তারা যেহেতু অন ডিউটিতে ছিল, তাই তাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। আমি আপনার কথা শুনেছি। সাসপেন্ড হওয়া পুলিশরা ক্লিনচিট না পেলে চাকরিতে ফের বহাল হবে না।" মনীশের স্ত্রী তখন বলেন, "আমি চাই ওই ছ'জন পুলিশকর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হোক"। এমন সময় ঘরে উপস্থিত কারও চোখে পড়ে, পুরো কথোপকথন রেকর্ড করা হচ্ছে। তিনি রেকর্ড করতে বারণ করেন।