নভেম্বরের শুরুতেই শীতের আমেজ রাজ্যে। পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে ঢুকছে ঠান্ডা হাওয়া, কলকাতার তাপমাত্রাও নেমে এসেছে ২০ ডিগ্রির নীচে। কতদিন চলবে এমন?

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 November 2025 09:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই শীতের ছোঁয়া মিলছে বাংলায় (Winter in Bengal)। চলতি মাসের প্রথমার্ধে শৈত্যপ্রবাহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড় এবং ঝাড়খণ্ডে। সেই প্রভাবেই আগেভাগে এরাজ্যে শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তাঁদের মতে, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শীতল ও শুকনো বাতাস এখন দক্ষিণবঙ্গের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করছে।
রবিবার ভোরে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এক ধাক্কায় ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নেমে যায় (Weather Update)। আজ, সোমবার ভোরে দক্ষিণবঙ্গে আরও বেশি ঠান্ডা অনুভূত হয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, আগামী চার-পাঁচ দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রার তেমন কোনও পরিবর্তন হবে না।
রবিবার সকালে দক্ষিণবঙ্গে সবথেকে কম তাপমাত্রা ছিল বীরভূমের শ্রীনিকেতনে- ১৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (West Bengal Weather)। কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯.২ ডিগ্রি, যা শনিবারের তুলনায় প্রায় ২ ডিগ্রি কম এবং এই সময়ের স্বাভাবিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রার তুলনায় ২.১ ডিগ্রি কম। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আজ কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরও কমে ১৭ থেকে ১৮ ডিগ্রির মধ্যে নেমে আসতে পারে। রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে দার্জিলিংয়ে, ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সেখানকার তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে।
রবিবার রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে- সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ থেকে ১৬ ডিগ্রির মধ্যে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ঝাড়খণ্ড ও ছত্তীসগড় থেকে আসা ঠান্ডা হাওয়া পশ্চিমাঞ্চল দিয়েই বাংলায় ঢুকছে, ফলে এই জেলাগুলিতে শীতের প্রভাব আরও বেশি। এমনকি, কালিম্পংয়ের (১৭ ডিগ্রি) তুলনায় পশ্চিমাঞ্চলের কিছু জায়গা বেশি ঠান্ডা ছিল। সোমবারও একই অবস্থা রয়েছে।
দার্জিলিংয়ের তুলনায় কম উচ্চতার কারণে কালিম্পংয়ে শীতের তীব্রতা কিছুটা কম থাকলেও, এই পারদপতন এখনকার সময়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। তাঁদের ধারণা, সময় যত এগোবে, শীতের মাত্রা ততই বাড়বে। গত ১০ থেকে ১২ বছরে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার একাধিক নজির রয়েছে। আপাতত, শীতের স্পষ্ট অনুভূতি মূলত ভোর ও রাতের দিকে মিলছে।