কয়লা পাচার মামলার তদন্তে মঙ্গলবার ভোর থেকেই রাজ্যের ৯ জায়গায় ইডি অভিযান চলছে ব্যাপক তৎপরতার সঙ্গে। ইডি আধিকারিকদের একটি দল জামুরিয়ায় ব্যবসায়ী রমেশ বনসালের বাড়িতে যায়।
.jpg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 February 2026 15:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়লা পাচার মামলার (Coal Scam Case) তদন্তে মঙ্গলবার ভোর থেকেই রাজ্যের ৯ জায়গায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী ইডির অভিযান চলছে ব্যাপক তৎপরতার সঙ্গে। ইডি আধিকারিকদের একটি দল জামুরিয়ায় ব্যবসায়ী রমেশ বনসলের বাড়িতে যায়। এছাড়াও তাঁর দুই ছেলের বাড়ি এবং পাঞ্জাবি মোড়ে রমেশের হার্ডওয়্যারের দোকান ও গুদামেও তল্লাশি চলে। ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় দেড় কোটি নগদ (ED recovered cash)। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তল্লাশি এখনও চলছে।
ইডি (ED) সূত্রে খবর, বালি ও কয়লা পাচার মামলায় আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগে জামুরিয়ার ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে যায় ইডি। সেইসময়েই সংবাদমাধ্যম খবর সংগ্রহ করতে গেলে তাদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে রমেশের ছোট ছেলে সুমিত বনশলের বিরুদ্ধে।
এখনও পর্যন্ত দেড় কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনটে মেশিন দিয়ে টাকা গোনার কাজ চলছে। প্রয়োজনে আরও মেশিন আনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
কলকাতা, আসানসোল, দুর্গাপুর, পাণ্ডবেশ্বর-সহ রাজ্যের ৯ জায়গায় তল্লাশি চলছে ইডির (ED Raid in Bengal)। কয়লা পাচার চক্রের (Coal Smuggling) বিরুদ্ধে চলা তদন্তকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতেই সাতসকালে এই অভিযান বলে খবর। কেবল বাংলায় নয়, ইডির একটি দল ইতিমধ্যেই দিল্লির (ED Raid in Delhi) বেশ কিছু জায়গায় পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেছে।
অন্যদিকে, এদিন সকালে দুর্গাপুরে (ED in Durgapur) বালি ব্যবসায়ী প্রবীর দত্তের বিলাসবহুল বাড়িতে পৌঁছন তদন্তকারীরা। দীর্ঘদিন ধরেই বালির কারবারে যুক্ত এই প্রবীর দত্ত আগে পানাগড়ে থাকতেন। প্রায় দু’বছর আগে তিনি নতুন বাড়ি নির্মাণ করে সেখানে থাকতে শুরু করেন। সূত্রের দাবি, সম্প্রতি তিনি দুবাইয়েও গিয়েছিলেন।
কিন্তু সেখানে এক নাটকীয় পরিস্থিতির তৈরি হয়। অভিযোগ, ইডি আধিকারিকরা সেখানে গেলে প্রথমে তাদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নিয়ে তদন্তকারীরা বাড়ির দরজা খুলিয়ে তদন্ত শুরু করেন। তাঁর সঙ্গে আর কারা এই চক্রে যুক্ত রয়েছেন, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্রবীর দত্তের ভাইয়ের বাড়িতেও তল্লাশি চালাচ্ছেন ইডি আধিকারিকরা।
দু'মাস আগে ইডি অভিযানে (ED Raid Coal Scam case) যে ডিজিটাল প্রমাণ (Digital Evidence) পাওয়া গিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল মোবাইল ফোন, হোয়াটস অ্যাপ চ্যাট-সহ আরও একাধিক ডিজিটাল নথি বাজেয়াপ্ত করে। সেই সূত্র ধরেই এখনও পর্যন্ত ৯ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। উঠে আসে মনোরঞ্জ মণ্ডলের নাম। এছাড়াও তদন্তে কিরণ খান, শেখ আখতার, প্রবীর দত্ত, অমিত বনশল, মির্জা নিজামুদ্দিন, চিন্ময় মণ্ডলের নামও রয়েছে। জানা গেছে, এই চিন্ময় মণ্ডল কয়লাপাচার মামলায় অন্যতম মাথা ছিলেন।