গত লোকসভা নির্বাচনের আগে দেব স্পষ্টভাবে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের দাবি তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। এমনকি, যথাযথ প্রতিশ্রুতি না পেলে তৃতীয় বারের জন্য প্রার্থী হবেন না— এই বার্তাও দিয়েছিলেন তিনি।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 28 January 2026 15:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছরের পর বছর বন্যার আতঙ্ক, অবশেষে তার অবসান ঘটানোর পথে ঘাটাল। বুধবার হুগলির সিঙ্গুর থেকে বহু প্রতীক্ষিত ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের (Ghatal Master Plan) উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। মঞ্চে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঘাটালের তিন বারের সাংসদ-অভিনেতা দেব ওরফে দীপক অধিকারী (DEV) এবং রাজ্যের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা সবংয়ের বিধায়ক মানস ভুঁইঞা, স্থানীয় সাংসদ-অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যরা।
একই সঙ্গে এদিনের মঞ্চ থেকে রাজ্যের ২০ লক্ষ উপভোক্তাকে বাংলার বাড়ি (গ্রামীণ)-২ প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৬০,০০০ টাকা বিলি করা হল।। এই খাতে রাজ্যের ব্যয় হবে ২৪ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। এই মঞ্চ থেকেই মোট ১০৭৭ টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান, যার অর্থমূল্য ৫৬৯৪ কোটি টাকা এবং ৬১৬ টি প্রকল্পের শিলান্যাস যার অর্থমূল্য ২১৮৩ কোটি টাকা।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ঘাটালবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি হলেও কেন্দ্রীয় বঞ্চনার (Centre's denial) কারণেই এতদিন প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। ২০১৪ সালে আর্থিক সাহায্যের প্রস্তাব পাঠান হয় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে, কিন্তু কেন্দ্র তাতে কর্ণপাত করেনি। তাঁর ঘোষণা, কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়াই রাজ্য সরকার নিজেদের ফান্ড থেকে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রাথমিকভাবে ১৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার সময় ধার্য্য করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মমতা বলেন, ঘাটালের মানুষ বছরের পর বছর জলযন্ত্রণার শিকার। এই প্রকল্প তাদের স্থায়ী সমাধান দেবে।”
মঞ্চে দাঁড়িয়ে সাংসদ দেবও স্মরণ করিয়ে দেন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির কথা। তাঁর বক্তব্য, “লোকসভা ভোটের সময় ঘাটালের মানুষকে কথা দিয়েছিলাম, মাস্টার প্ল্যান হবেই। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হচ্ছে।” দেব জানান, গত বছর ফেব্রুয়ারি থেকেই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল, বুধবার তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হল।
এই প্রকল্পের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন। অতীতে বাম আমলে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান তৈরির রূপরেখা তৈরি করা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এনিয়ে রাজ্য-কেন্দ্রর দড়ি টানাটানি চলছিলই। দেব বলেন, "১৯৫৯ থেকে ফাইল টেবিলে টেবিলে ঘুরে ঘুরে গেছে। ঘাটালের মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কেউ কথা রাখেনি। অবশেষে কেউ তো কথা রাখল, যাঁর নাম দিদি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।"
গত লোকসভা নির্বাচনের আগে দেব স্পষ্টভাবে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের দাবি তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। এমনকি, যথাযথ প্রতিশ্রুতি না পেলে তৃতীয় বারের জন্য প্রার্থী হবেন না— এই বার্তাও দিয়েছিলেন তিনি। এরপরই দেবকে পাশে নিয়ে ঘাটালে নির্বাচনী সভা থেকে মমতা ঘোষণা করেন, কেন্দ্র বঞ্চনা করলেও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রাজ্য সরকারই করবে। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে জয়ের পর প্রকল্পের কাজ গতি পায়, আর বিধানসভা ভোটের আগেই তার উদ্বোধন রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
প্রশাসনের দাবি, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম মেদিনীপুরের ৭টি ব্লক— ঘাটাল, দাসপুর ১ ও ২, চন্দ্রকোনা ১ ও ২, কেশপুর ও ডেবরা ছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুরের ৪টি ব্লক— পাঁশকুড়া ১, কোলাঘাট, ময়না ও তমলুক, পাশাপাশি ঘাটাল ও পাঁশকুড়া পুরসভার মানুষ উপকৃত হবেন। মোট প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ বন্যা ও জলযন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পাবেন বলে প্রশাসনের দাবি।
বছরের পর বছর যে ঘাটাল ছিল বন্যার সমার্থক, সেই ঘাটালকে নতুন পরিচয় দিতে পারবে কি এই মাস্টার প্ল্যান, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে গোটা এলাকা।