কিশোরী মন যে কতটা নাজুক, সরলার মৃত্যু যেন ফের একবার সেই সতর্ক বার্তা দিয়ে গেল।
.jpeg.webp)
প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 6 September 2025 15:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ১৫ বছর বয়স। পড়াশোনার চাপ, বাবা-মায়ের প্রত্যাশা পূরণ না করতে পারার যন্ত্রণা— সব মিলিয়েই কি শেষমেশ আত্মহত্যার পথ বেছে নিল কদমতলার কিশোরী? শনিবার দুপুরে শিলিগুড়ির (Siliguri) এক বহুতলের নীচে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় নবম শ্রেণির ছাত্রী সরলা ঠকচকের দেহ (Class IX students, jump)। পুলিশ সূত্রে খবর, ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়েছিল মেয়েটি।
সরলা কদমতলা বিএসএফ স্কুলের পড়ুয়া। মায়ের চাকরি বিএসএফে। পরিবার থাকে কদমতলা পাঁচ নম্বর গেটের কাছে বিএসএফ আবাসনে। এ দিনও স্কুলে যাওয়ার নাম করে বেরোয় সে। কিন্তু স্কুলে আর পৌঁছয়নি। স্থানীয় এক বহুতলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সরলা ঢুকছে সেই আবাসনে। তার পরেই ঘটে দুর্ঘটনা। বহুতলের বাসিন্দা ইন্দ্রজিৎ ঠাকুর প্রথম রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েটিকে দেখতে পান। দ্রুত উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা সরলাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি সুইসাইড নোট। চিঠিতে লেখা— “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। বাবা-মায়ের চাহিদা পূরণ করতে পারিনি। আমি পড়াশোনায় ভাল নই। আমার দ্বারা হল না।” পুলিশের অনুমান, পড়াশোনার চাপেই চরম পদক্ষেপ করেছে কিশোরী।
তবে প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে। অন্য আবাসনের ছাদে অচেনা একজন কিশোরী কী ভাবে ঢুকে গেল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি রাকেশ সিং জানিয়েছেন, ‘‘সুইসাইড নোটে বাবা-মায়ের প্রত্যাশার কথাই লিখেছে মেয়েটি। তবে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’
শহরের মানুষ হতবাক। কিশোরী মন যে কতটা নাজুক, সরলার মৃত্যু যেন ফের একবার সেই সতর্ক বার্তা দিয়ে গেল।