মগড়ার বিশপাড়ার বাসিন্দা রিয়ার সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে হয় সুভাষের।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 13 July 2025 21:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র পাঁচ মাস আগে ইলেকট্রিক স্কুটি, ল্যাপটপ-সহ একাধিক উপহার দিয়ে ধুমধাম করে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন বাবা। সেই মেয়েই এদিন ফিরে এল নিথর দেহ হয়ে। ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলছিল তাঁর দেহ। ঘটনাটি হুগলির বলাগড় থানার রুকেসপুর এলাকার। মৃতার নাম রিয়া দাস (২৯)। পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার স্বামী সুভাষ সাঁতরার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ এনেছে মৃতার পরিবার(Civic volunteer's wife)।
মগড়ার বিশপাড়ার বাসিন্দা রিয়ার সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে হয় সুভাষের। কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস কাটতে না কাটতেই স্তব্ধ হয়ে গেল জীবনের সমস্ত ছন্দ। রিয়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হল তাঁর ঝুলন্ত দেহ।
শ্বশুরবাড়ির দাবি, সকাল থেকে রিয়ার ঘরের দরজা বন্ধ ছিল। বহুবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না মেলায়, রিয়ার বাপেরবাড়িতে খবর দেওয়া হয়। বাপেরবাড়ির লোকজন এসে দরজা ভেঙে দেখতে পান, ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছেন রিয়া। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় জিরাট হাসপাতালে, যেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
রিয়ার মৃত্যুকে স্বাভাবিক নয় বলেই দাবি করেছে তাঁর পরিবার। মৃতার মাসি বলেন, ‘‘আমাদের মেয়েকে ওরা মেরে ঝুলিয়ে দিয়েছে। বহুদিন ধরে মেয়েটার উপর মানসিক অত্যাচার চালানো হচ্ছিল।’’ একই সুর রিয়ার বাবা দীপক দাসের গলায়ও। তাঁর অভিযোগ, ‘‘বিয়ের সময় যা দেওয়ার আমরা দিয়েছিলাম। তারপরও ওর উপর পণের জন্য চাপ দিত। আমরা অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু লাভ হয়নি।’’ তাঁর দাবি, রিয়াকে খুন করেছে সুভাষ ও তাঁর মা।
যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রিয়ার শাশুড়ি শোভা সাঁতরা। তাঁর দাবি, ‘‘বিয়ের পর থেকেই সাংসারিক সমস্যা চলছিল। গতকাল কাজে গিয়ে দেরিতে ফেরে রিয়া। রিচার্জ না থাকায় ফোন করেনি। সে নিয়েই রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে
বাপেরবাড়িতে খবর দেওয়া হয়। বাপেরবাড়ির লোকজন এসে দরজা ভেঙে দেখতে পান, ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছেন রিয়া। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় জিরাট হাসপাতালে, যেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার তদন্তে নেমেছে বলাগড় থানার পুলিশ। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। হুগলি গ্রামীণ পুলিশের DSP (ক্রাইম) অভিজিৎ সিনহা মহাপাত্র বলেন, ‘‘একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। সোমবার ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত হবে।’’
এই ঘটনার পরে এলাকায় শোকের ছায়া। রিয়ার পরিবারের একটাই প্রশ্ন— পাঁচ মাসের মধ্যেই কেন এমন পরিণতি? পণ আর সন্দেহের চাপে প্রাণ গেল কি এক তরতাজা প্রাণের? উত্তর খুঁজছে পরিবার, আর এখন সেই খোঁজে নামছে পুলিশও।
হুগলি গ্রামীণ পুলিশের DSP (ক্রাইম) অভিজিৎ সিনহা মহাপাত্র বলেন, ‘‘একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। সোমবার ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত হবে।’’