এই ঘটনার পর থেকে সিভিক ভলান্টিয়ার গোরক্ষ দীক্ষিত পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের চোখের মণি। তাঁকে নিয়ে এদিন একটি ভিডিও পোস্ট করা হয় সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে।

গোরক্ষ দীক্ষিত
শেষ আপডেট: 9 January 2026 17:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকাল সবে গড়িয়েছে ১০টা। দু’পয়সার ফেরিঘাট (Du’Poyshar Ferry Ghat) পেরিয়ে লঞ্চে ওঠার সময় হঠাৎই পা পিছলে গঙ্গায় (Ganga) পড়ে যান এক ভদ্রমহিলা। মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যেতে থাকেন। অনেকেই চিৎকার শুনে ছুটে আসেন। হাত বাড়ান মহিলা দিকে কিন্তু কোনওভাবেই তিনি হাত ধরার পরিস্থিতিতে ছিলেন না। উল্টে সেকেন্ডের মধ্যে তলিয়ে যেতে শুরু করেন। আর ঠিক সেই সময়ই নিজের জীবনের পরোয়া না করে জলে ঝাঁপ দেন ব্যারাকপুর কমিশনারেটের এক সিভিক ভলান্টিয়র।
দুর্ঘটনার সময় তিনি ওই ফেরিঘাটের কাছেই ছিলেন। মহিলা ও লঞ্চের লোকজনের চিৎকার শুনে জেটিতে যান। জলে ঝাঁপ দেন দ্রুত এবং কোনওমতে মহিলাকে জল থেকে তুলে আনেন। অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তাঁর গলায় তখনও আতঙ্ক। জানান, মহিলা তিন ফুট মতো নীচে চলে গিয়েছিলেন, ভাগ্যিস দেখেছিলেন!
এই ঘটনার পর থেকে সিভিক ভলান্টিয়ার গোরক্ষ দীক্ষিত পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের চোখের মণি। তাঁকে নিয়ে এদিন একটি ভিডিও পোস্ট করা হয় সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে। 'নিঃশব্দ নায়ক' আখ্যা দিয়ে কুর্নিশ জানান আধিকারিকরা। আর এনিয়ে একটুও অহংকার না করে গোরক্ষর দাবি, এটাই তো তাঁর কাজ। মানুষের জন্য যদি কিছুই না করতে পারেন, তাহলে এ কাজ করে কী হল।
গোরক্ষ বলেন, “দৌড়ে এসে দেখি উনি ডুবে যাচ্ছেন। এক হাতে দড়ি ধরে তুলি। আশপাশে আরও মাঝিরা ছিলেন। প্রায় তিন ফুট নীচে তলিয়ে গিয়েছিলেন। আর একটু হলেই ডুবে যেতেন। একাজ তো করতেই হত।”
এদিকে, উদ্ধার হওয়া মহিলা কাঁপা গলায় বলেন, “আমাকে দ্বিতীয় জন্ম দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। চিরকৃতজ্ঞ থাকব।”
আর গোরক্ষকে এখন শুধু পুলিশ ডিপার্টমেন্ট নয়, সোশ্যাল মিডিয়ার নাগরিকরাও কুর্নিশ জানাচ্ছেন। তাঁর সাহসিকতা ও মানবিকতার প্রশংসা ভিডিওর ফিডজুড়ে।