মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, বিজেপি যখন মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে মানুষকে আর বিশ্বাস করাতে পারছে না, তখন প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করা হচ্ছে।

মহম্মদ সেলিম
শেষ আপডেট: 13 January 2026 18:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের তালিকা (Voter List) ত্রুটিমুক্ত করা নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু সেই কাজ না করে কমিশন এখন ‘এক্সক্লুশন’ বা বাদের উপর জোর দিচ্ছে। এর পিছনে স্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করছে। এমনই অভিযোগ করলেন সিপিএমের (CPM) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Md Salim)।
মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, বিজেপি যখন মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে মানুষকে আর বিশ্বাস করাতে পারছে না, তখন প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করা হচ্ছে। শুনানির নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। পরিকল্পিত ভাবে বড় অংশের মানুষকে টার্গেট করা হয়েছে। পরিযায়ী শ্রমিক, মুসলিম, মহিলা এবং আর্থিক ভাবে দুর্বল মানুষজনই এর শিকার (West Bengal SIR)।
সেলিমের প্রশ্ন, কোন নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই নোটিস পাঠানো হচ্ছে? নোটিসে অসংখ্য বানান ভুল, বয়সের ফারাক চোখে পড়ছে। এমনকি অমর্ত্য সেনের নামেও নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পদবি সংক্রান্ত বিষয়েও নির্বাচন কমিশনের ‘চরম অজ্ঞতা’ তুলে ধরেন সিপিএম নেতা। তাঁর বক্তব্য, মুসলিম মহিলাদের ক্ষেত্রে বিয়ের পরে পদবি বদলের ঘটনা স্বাভাবিক। নিজের পরিবারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, খাতুন থেকে বিবি বা বেগম হওয়া অস্বাভাবিক নয়। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও এখন কেন এই হয়রানি? মণ্ডল পদবির বানান বা ‘শঙ্কর’ নামের ইংরেজি বানান একাধিক রকম হতে পারে, উচ্চারণও সর্বত্র এক নয়।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে সেলিম জানান, মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে ৫৪০ জনকে হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়েছে। ইংরেজবাজারের ১২ নম্বর বুথে নোটিস গিয়েছে প্রায় ৪০০ জনের কাছে। নদিয়ার একাধিক বুথে ৪০০-৫০০ জন করে এবং মানিকচকে প্রায় ৬০০ জন ভোটারকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, এ কি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, না কি পরিকল্পিতভাবে নাম বাদ দেওয়া?
রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি নাগরিকের অস্তিত্ব খুঁজে না পেয়ে এখন এলোপাথাড়ি নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন মেনে নোটিস পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কিছু নির্দিষ্ট বিধানসভা এলাকাকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যেখানে ভোটের ফল কী হতে পারে তা আগেভাগেই অনুমান করা হয়েছে।
সেলিম জানান, এই বিষয়টি নিয়ে দলের প্রতিনিধি দল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে যাবে। মতুয়া, মুসলিম-সহ সমস্ত স্পর্শকাতর এলাকার মানুষের পাশে দল রয়েছে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। এই ঘটনার প্রতিবাদে ব্লক স্তরে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। কোন অফিসারের নির্দেশে এই প্রক্রিয়া চলছে, তা চিহ্নিত করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হবে বলেও জানান সেলিম।