২০২৪ সালের ১১ই মার্চ হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনার এই উদ্যোগ শুরু করেছিলেন মাত্র ২৫ জন শিশুকে নিয়ে। আজ, মাত্র এক বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে ৫৪। যার মধ্যে ৫১ জনকে ইতিমধ্যেই স্কুলে ভর্তি করানো গেছে।

থানার বারান্দায় চলছে পাঠশালা
শেষ আপডেট: 18 June 2025 14:04
শহরের ব্যস্ততা, কোলাহল, যানবাহনের শব্দ, সবকিছুর মধ্যেই আঁকা হচ্ছে এক অন্য ছবি। হাওড়া সিটি পুলিশের মহিলা থানার বারান্দায় বসে পড়াশোনা করছে কেউ, কেউ ছবি আঁকছে। দিদিমণিরা সবাই আইনের রক্ষক। কাজের বাইরের সময়টায় তাঁরা ছোটদের চোখে স্বপ্ন বুনছেন।
২০২৪ সালের ১১ই মার্চ হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনার এই উদ্যোগ শুরু করেছিলেন মাত্র ২৫ জন শিশুকে নিয়ে। আজ, মাত্র এক বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে ৫৪। যার মধ্যে ৫১ জনকে ইতিমধ্যেই স্কুলে ভর্তি করানো গেছে। তাই রীতিমতো উচ্ছ্বসিত হাওড়া মহিলা থানার কর্মী-আধিকারিকরা। প্রতি বিকেলে রামকৃষ্ণপুরের আশপাশের এলাকার পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিশুরা আসে এই পাঠশালায়। তাদের কারও বাবা রিকশাচালক, মা গৃহপরিচারিকা। এতদিন সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখলেও অন্ধকার কীভাবে কাটবে জানা ছিল না। মহিলা থানা তাঁদের আশার আলো দেখাচ্ছে।
শুধু পড়াশোনা নয়, এখানে এসে ছবি আঁকা, শরীরচর্চাও শেখে ছোটরা। ক্লাস শেষে হাতে তুলে দেওয়া হয় খাবারের প্যাকেট। রামকৃষ্ণপুরের বাসিন্দা গীতা শর্মা, সাথী সিং, শান্তি অধিকারীরা জানান, আগে পড়াশোনায় মন বসত না তাঁদের ছেলেমেয়েদের। এখন নিজে থেকেই বইয়ের ব্যাগ নিয়ে বারান্দায় ছুটে যায়।
এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন মহিলা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক কাকলী ঘোষ কুন্ডু। তাঁর কথায়, “প্রাথমিক স্তরে আমরা ওদের এমনভাবে তৈরি করি যাতে ওরা স্কুলে ভর্তির জন্য উপযুক্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষা শিশুদের অধিকার—আমরা চাই না কেউ তা থেকে বঞ্চিত হোক।” তাঁরা এই প্রকল্পের নাম দিয়েছেন বারান্দায় রোদ্দুর।
প্রতিদিন থানার বারান্দা জুড়ে রোদ্দুর নামে। থানার বারান্দায় ছোটদের কলরব শুনে পথচলতি মানুষও অনেকসময় দাঁড়িয়ে যান। কেউ কেউ মোবাইলে ছবিও তুলে রাখেন। থানার বারান্দাকে স্বপ্ন পূরণের উঠোন হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।