এই প্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠিও দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি অনুরোধ করেছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় সময়সীমা বাড়ানোর জন্য। তাঁর বক্তব্য, “এভাবে তাড়াহুড়ো করে হলে বহু মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হবে।”
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 21 November 2025 13:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে বাংলায়। এবার ফের পথে নামতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister Mamata Banerjee)।
আগামী মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়াগড়ে মিছিল করবেন তিনি। মিছিল শেষেই তাঁর সভা বনগাঁর ত্রিকোণ পার্কে (meeting in Bangaon)। শাসকদলের দাবি, এসআইআর-এ ‘তাড়াহুড়ো’ চলছে, আর তাতেই সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনিক কর্মীদের ওপর তৈরি হচ্ছে অস্বাভাবিক চাপ।
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, এসআইআর-এর মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াকে দ্রুত শেষ করার নির্দেশের ফলে বহু প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) ওপর কাজের চাপ এতটাই বাড়ছে যে তারা দিনে-রাতে কাজ করেও তাল রাখতে পারছেন না। শাসকদলের বক্তব্য, এই অমানবিক পরিশ্রম ভুলভ্রান্তির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোটারদের ওপর।
গত কয়েক সপ্তাহে রাজ্যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্কে একাধিক অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উদ্বেগে রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূলের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ স্বচ্ছ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ হওয়া উচিত। কিন্তু কমিশনের নির্দেশে যে গতিতে কাজ এগোচ্ছে, তাতে জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
এই প্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে চিঠিও দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি অনুরোধ করেছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় সময়সীমা বাড়ানোর জন্য। তাঁর বক্তব্য, “এভাবে তাড়াহুড়ো করে হলে বহু মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হবে।”
শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপেই থেমে থাকেনি তৃণমূল। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছে দল। তাদের দাবি, আদালতের হস্তক্ষেপেই একমাত্র নিশ্চিত করা যাবে যাতে কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ না পড়ে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মঙ্গলবারের মিছিল ও সভা এসআইআর নিয়ে তৃণমূলের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলবে। মতুয়াগড়ে মমতার উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ বনগাঁ ও সংলগ্ন অঞ্চলজুড়ে বড় সংখ্যায় মতুয়া ভোটাররা বাস করেন, যাদের একটা অংশ ইতিমধ্যেই নথিপত্র যাচাই নিয়ে উদ্বিগ্ন। ফলে মমতার বার্তা সরাসরি এই অঞ্চলেই দলের রাজনৈতিক অবস্থানকে জোরদার করতে পারে।
প্রসঙ্গত, এসআইআর শুরুর মুখে কলকাতার রাজপথেও মিছিল করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।