উদ্ধারকাজে যুক্ত প্রশাসনিক টিমকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “টুডে, আই স্যালুট অল দ্য টিম-বিডিও, ডিএম, এসপি, পুলিশ, এনডিআরএফ, প্রত্যেকেই অসাধারণ কাজ করেছে।”
বর্তমানে ৩৭টি ত্রাণ শিবিরে এখনো রয়েছেন প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মানুষ। তাঁদের রান্না করে খাওয়ানো হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যত দিন না তারা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, তত দিন চালু থাকবে এই শিবিরগুলি। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, “প্রতিটি পরিবারকে ফের স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে যা যা প্রয়োজন, সব করা হবে। হারিয়ে যাওয়া সমস্ত নথিও দ্রুত দেওয়ার ব্যবস্থা করবে প্রশাসন।
বস্তুত, দুর্যোগের জেরে পাহাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও কাঁদছে, তবে মুখ্যমন্ত্রীর সক্রিয় হস্তক্ষেপে কিছুটা হলেও ভরসা ফিরে পাচ্ছেন দার্জিলিংবাসী। মিরিক থেকে মালবাজার—সর্বত্রই রাজ্যের তৎপরতা নজরকাড়া।
এদিনের বৈঠকে ফের পড়শি রাজ্য থেকে জল ছাড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। এও বলেন, "এভাবে পড়শি রাজ্যের জলে আমাদের এলাকা বারবার বানভাসি হলে প্রয়োজনে আমার ড্যাম ভেঙে দিতে বাধ্য হব।"
একই সঙ্গে দুর্যোগে কেন্দ্রের সাহায্য না পাওয়া নিয়েও দ্বিচারিতার অভিযোগ এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমরা এক পয়সা পাইনি, তা সত্ত্বেও আমাদের সরকার কীভাবে মানুষকে সাহায্য করেছে সেটা সবাই দেখতে পাচ্ছেন।"
এরপরই জনতার উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র টাকা না দিলেও আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে যদি কেউ সাহায্য করতে চান, সেজন্য সরকারের তরফে ডিজাস্টার রিলিফ ফান্ড চালু করা হয়েছে। ওয়েস্টবেঙ্গল স্টেট ডিজাস্টার ম্যানজেমেন্ট অথরিটির নামে এই ফান্ড চালু করা হয়েছে। চাইলে সরাসরি যে কেউ এই ফান্ডে সাহায্য করতে পারেন।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষমার পরই রাজ্যের সকল মন্ত্রী ওয়েস্টবেঙ্গল স্টেট ডিজাস্টার ম্যানজেমেন্ট অথরিটির ফান্ডে এক লক্ষ টাকা করে দান করেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও বৈঠক থেকে ১ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন প্রশাসনের হাতে। কিছু পরে দলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ত্রাণ তহবিলে সরকারকে এক লক্ষ টাকা দান করেন।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১১ সালের পর থেকে এখনও পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে রাজ্যের তরফে ১৪ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।