ওই বৈঠক থেকে চাকরিহারা শিক্ষকদের জন্য সরকার ইতিবাচক কোনও ঘোষণা সামনে আনতে পারে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের অনেকে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 27 May 2025 14:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকরিহারা শিক্ষক শিক্ষিকাদের (ssc deprived teachers) বিষয়ে মঙ্গলবার বিকেলে বিশেষ সাংবাদিক বৈঠক (special press conference ) করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
এদিন দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোশ্যাল পেজ থেকে এ খবর জানানো হয়েছে। পোস্টে লেখা হয়েছে, 'চাকরিহারা ভাইবোনদের জন্য আজ বিকেল পাঁচটায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে নবান্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে।'
নবান্ন সূত্রের মতে, এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে বড় ঘোষণা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাঁদের মধ্যে যোগ্য প্রার্থীরা ফের পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন। কিন্তু ঘটনা হল, এঁদের মধ্যে অনেকের আবার সরকারি চাকরিতে নিয়োগের জন্য বয়স চলে গিয়েছে। হতে পারে, এ ক্ষেত্রে বয়সের উর্ধ্বসীমা বাড়ানো হতে পারে। তবে প্রকৃতপক্ষে কী ঘোষণা হবে তা নিয়ে স্পষ্ট কোনও ইঙ্গিত বা আভাস এখনও মেলেনি।

প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই সাংবাদিক বৈঠকে উদ্দেশ্য দুটি। এক, চাকরিহারা যোগ্য প্রার্থীদের ভরসা দেওয়া। তাঁদের এটা বোঝানো যে সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে। একটা বিহিত বন্দোবস্ত করা হবে। দুই, ২৬ হাজার চাকরি বাতিল নিয়ে যেভাবে রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে, সেটাকেও প্রশমিত করা। এবং সাধারণ মানুষকে বোঝানো যে সরকার দায় ঝেড়ে ফেলেনি। বরং সরকার এ ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া বিকল্প বন্দোবস্তও ভেবে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
চাকরিহারা গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডির কর্মীদের জন্য সরকারিভাবে ভাতা দেওয়ার কথা আগেই ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এপ্রিল থেকে গ্রুপ সির কর্মীদের প্রতি মাসে ২৫ হাজার ও গ্রুপ ডির কর্মীদের মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য। সন্দেহ নেই, মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য সাংবাদিক বৈঠককে ঘিরে তাই কৌতূহল ও উৎসাহের পারদ চড়ছে।
স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৬ সালের নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে আস্ত প্যানেল বাতিল করে দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট। যার জেরে চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী। শীর্ষ আদালতের রায়ের পর চাকরিহারাদের নিয়ে নেতাজি ইনডোরে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেও থেকে তাঁদের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে বলেছিলেন, আমি প্ল্যান এ বি সি ডি ই রেডি করে রেখেছি।
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বরাভয় দিলেও চাকরি হারিয়ে শিক্ষকদের অনেকেই অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। যা খুবই স্বাভাবিক বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, প্রত্যেকেরই সারা জীবনের নিশ্চিন্ত জীবিকার বিষয়টি এখানে জড়িত। সম্প্রতি চাকরিহারা শিক্ষকদের একাংশ বিকাশভবনের সামনে ঘেরাও অবস্থান তীব্রতর করে। গত সপ্তাহে যা নিয়ে বিকাশ ভবন চত্বরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল। পরে আদালতের নির্দেশ মেনে বিকাশ ভবনের সামনে থেকে অবস্থান সরিয়েছেন চাকরিহারা শিক্ষকরা। তাঁদের সাফ কথা, যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করুক রাজ্য।এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি শীর্ষ আদালতেও পিটিশন দায়ের করেছেন আন্দোলনকারীরা।