নোটিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, হাইরাইজ, গ্রুপ হাউসিং সোসাইটি, আরডব্লিউএ কলোনিসহ বিভিন্ন গেটেড আবাসনে ভোটকেন্দ্র তৈরির ক্ষেত্রে যে প্রশাসনিক ও বাস্তব সমস্যা দেখা দিচ্ছে, সেই বিষয়গুলিই মূল আলোচ্য হবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 29 December 2025 23:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবাসনে (Highrise) ভোটকেন্দ্র করা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও অভিযোগের আবহে এবার সরাসরি জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের (DEO) নিয়ে বৈঠক ডাকল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের (CEO) দফতর।
নির্বাচন কমিশনের (ECI) তরফে পাঠানো নোটিস অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টেয় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরের কনফারেন্স হলে।
এই বৈঠকে হাজির থাকতে বলা হয়েছে কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া এবং হুগলি - এই আট জেলার জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে প্রাসঙ্গিক নথিপত্র নিয়ে আসতে হবে।
নোটিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, হাইরাইজ, গ্রুপ হাউসিং সোসাইটি, আরডব্লিউএ কলোনিসহ বিভিন্ন গেটেড আবাসনে ভোটকেন্দ্র তৈরির ক্ষেত্রে যে প্রশাসনিক ও বাস্তব সমস্যা দেখা দিচ্ছে, সেই বিষয়গুলিই মূল আলোচ্য হবে।
প্রসঙ্গত, বেসরকারি আবাসন কমপ্লেক্সের (Private Complex) ভিতরে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (ECI Ganesh Kumar) চিঠিও দেন তিনি।
মমতার যুক্তি - ভোটকেন্দ্র সবসময় সরকারি বা আধা-সরকারি ভবনে স্থাপিত হওয়াই নিয়ম। এতে জনসাধারণের সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়। বেসরকারি প্রাঙ্গণ ব্যবহারে প্রশ্ন উঠতে পারে নিরপেক্ষতার। ‘সুবিধাভোগী’ বনাম ‘অসুবিধাভোগী’ - এই বিভাজন তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও তারপরও ইসিআই (ECI) বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে।
এর পাশাপাশি ফর্ম ৬, ৭ ও ৮ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতর। জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ভোটারদের অভিযোগ, সংযোজন ও সংশোধনের আবেদন সহজ করতে বিএলওদের বুথে নির্দিষ্ট সময় উপস্থিত থাকতে হবে।
নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি বিএলওকে যে কোনও তিনটি কর্মদিবসে অন্তত দু’ঘণ্টা করে এবং ছুটির দিনে অন্তত চার ঘণ্টা নিজ নিজ বুথে উপস্থিত থাকতে হবে, যাতে ভোটাররা সরাসরি ফর্ম ৬, ৭ ও ৮ জমা দিতে পারেন।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই সময়সূচি ইআরও ও এআরওদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সামঞ্জস্য করা যেতে পারে, যাতে হিয়ারিং বা সংশোধন প্রক্রিয়ায় কোনও ব্যাঘাত না ঘটে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সময়সূচি জনসমক্ষে প্রচার করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে দূরত্ব, সময়সীমা ও প্রবীণ ভোটারদের অসুবিধা নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। সেই প্রেক্ষিতেই কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ভোটার-বান্ধব পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে এবং সমস্ত জেলা নির্বাচন আধিকারিককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানানো হয়েছে।