শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের সংস্থা রাজ্যের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে ইচ্ছাকৃতভাবে জল ছেড়ে বাংলাকে বিপদে ফেলতে চাইছে।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 4 October 2025 13:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোর আনন্দের মধ্যেই দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি) হঠাৎ জল ছেড়ে দেওয়ায় সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শুক্রবার তিনি অভিযোগ করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের সংস্থা রাজ্যের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে ইচ্ছাকৃতভাবে জল ছেড়ে বাংলাকে বিপদে ফেলতে চাইছে (Excess Water release from DVC reservoirs)।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে এক লাখ ৫০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি.আর. পাতিল শনিবার দাবি করেছেন, বাস্তবে জলছাড়ের পরিমাণ তার অর্ধেকেরও কম। মাইথন থেকে ৪২,৫০০ কিউসেক এবং পাঞ্চেত থেকে ২৭,৫০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে, মোট ৭০,০০০ কিউসেক (Centre refutes Bengal CM's claim)।
মুখ্যমন্ত্রী শুক্রবার পোস্টে লিখেছিলেন, বিজয়া দশমীর সময় শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপন করতে জনগণকে না দিয়ে দেড় লক্ষ কিউসেক জল হঠাৎ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উৎসবের সময় ডিভিসি জল ছেড়ে রাজ্যকে বানভাসি করতে চাইছে, যা “একতরফা এবং ইচ্ছাকৃত ষড়যন্ত্র”। তিনি বিষয়টিকে “লজ্জাজনক ও অগ্রহণযোগ্য” বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
এ ব্যাপারে সন্ধেয় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। অভিষেক বলেন, "কেন্দ্রের বাংলাকে বিসর্জন দেওয়ার চেষ্টা সফল হবে না। বাংলার মানুষ ছাব্বিশে ওদের বাকি অবশিষ্টও বিসর্জন দিয়ে দেবে।" সূত্রের খবর, আগামী রবিবার কার্নিভাল মিটলেই ডিভিসি ঘেরাও কর্মসূচিতে যেতে পারে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল।
যদিও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে পাল্টা বলা হয়েছে, ডিভিসি নিয়মমাফিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জলছাড়া পরিচালনা করে। জল ছাড়ার আগে রাজ্যের সেচ দফতরের মতামত চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া বা পরামর্শ আসেনি।
পাতিল আরও জানিয়েছেন, নিম্ন দামোদর অঞ্চলে পরিস্থিতি “স্বাভাবিক” এবং হুগলির হরিনখোলা এলাকায় জল সতর্কতা সীমার নিচে রয়েছে। এখন দেখার পাল্টা জবাবে মুখ্যমন্ত্রী কী বলেন।