ঘনিষ্ট মহলে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, জেলায় জেলায় দুর্গা পুজো উপলক্ষ্যে যে কার্নিভালের আয়োজন করা হয়েছে তা ভেস্তে দিতেই কোনও কারণ ছাড়া উৎসবের মরসুমে এভাবে জল ছেড়ে বাংলাকে ডোবাতে চাইছে ডিভিসি। ফলে এ জিনিস আর মুখ বুঝে সহ্য করা হবে না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 3 October 2025 19:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোর (Durga Puja) আনন্দ-উল্লাস শেষ হতেই বাংলায় নতুন বিপদের সঙ্কেত। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ডিভিসি (DVC) হঠাৎ ৬৫ হাজার কিউসেক জল ছেড়ে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি করেছে। সূত্রের খবর, বারবার রাজ্যকে না জানিয়ে জল ছাড়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
সূত্রের খবর, কলকাতা-সহ জেলায় জেলায় পুজোর কার্নিভাল শেষ হলেই ডিভিসিকে 'শিক্ষা' দিতে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবে তৃণমূল। প্রয়োজনে দিনরাত এক করে ডিভিসির দফতর ঘেরাও করা হতে পারে। ঘনিষ্ঠ মহলে ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রীও।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী টুইটের মাধ্যমে সরাসরি অভিযোগ তোলেন, “বিজয়া দশমী আনন্দ, উল্লাস আর নতুন আশার প্রতীক। অথচ মানুষকে শান্তিতে উৎসব শেষ করতে না দিয়ে ডিভিসি হঠাৎ ৬৫ হাজার কিউসেক জল ছেড়ে দিয়েছে। বাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বিপদের মুখে। এটি কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, ডিভিসি-র তৈরি দুর্যোগ।”
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি লিখেছেন, “এভাবে বাংলার মানুষকে বিপদে ফেলা বরদাস্ত করব না। বাংলার বিসর্জন কেউ ঘটাতে পারবে না। ষড়যন্ত্র শক্তহাতে প্রতিহত করব।”
সূত্রের খবর, এরপরই বৃহত্তর আন্দোলনের বিষয়ে আলোচনা হয়। ঘনিষ্ট মহলে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, জেলায় জেলায় দুর্গা পুজো উপলক্ষ্যে যে কার্নিভালের আয়োজন করা হয়েছে তা ভেস্তে দিতেই কোনও কারণ ছাড়া উৎসবের মরসুমে এভাবে জল ছেড়ে বাংলাকে ডোবাতে চাইছে ডিভিসি। ফলে এ জিনিস আর মুখ বুঝে সহ্য করা হবে না।
প্রসঙ্গত, এই প্রথম নয়, এর আগেও ডিভিসির বিরুদ্ধে রাজ্যকে না জানিয়ে জল ছাড়ার অভিযোগে সোচ্চার হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সে সময় মুখ্যমন্ত্রী এও জানিয়েছিলেন, ডিভিসি যদি কথা না শোনে তাহলে রাজ্য বাধ্য হবে ওদের সামনে বাঁধ তৈরি করে জল আটকে দেওয়ার।
এদিকে আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, ওড়িশার উপর তৈরি গভীর নিম্নচাপ উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে এগিয়ে আসছে। আগামী সাত দিন দক্ষিণবঙ্গ-সহ নাব্রাজ্য জুড়ে প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাব থাকবে। ডিভিসির জলছাড়ায় বর্ধমান, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর-সহ একাধিক জেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই নদী-তীরবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে। বিপদ এড়াতে পার্শ্ববর্তী গ্রাম ও নিম্নাঞ্চল থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অল আউট আন্দোলনের মাধ্যমে শাসকদল ডিভিসির জলছাড়া নিয়ে তৈরি সমস্যার সমাধান করতে পারে কিনা, এখন সেটাই দেখার। যদিও জল ছাড়া নিয়ে ডিভিসির কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।