সোমবার বিকেল ৪টেয় কলকাতার সিইও (মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক) দফতরে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।

ছাব্বিশের ভোটে বাহিনী-রুটম্যাপ কী?
শেষ আপডেট: 21 February 2026 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট (WB Assembly Election) ঘোষণা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। তার আগেই বাংলার রণকৌশল এবং বিশেষত কেন্দ্রীয় বাহিনীর গতিবিধি নিয়ে চূড়ান্ত তৎপরতা শুরু করে দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। বাহিনী মোতায়েন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় পরশু, সোমবার বিকেল ৪টেয় কলকাতার সিইও (মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক) দফতরে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, এই বৈঠকেই স্থির হতে পারে জেলায় জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ এবং স্পর্শকাতর বুথগুলিতে নিরাপত্তার নীল নকশা।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগারওয়ালের পৌরোহিত্যে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন কমিশনের নিয়োগ করা বিশেষ পর্যবেক্ষক এন কে মিশ্র। এ ছাড়াও বৈঠকে তলব করা হয়েছে রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতা পুলিশের কমিশনার (সিপি) এবং এডিজি (আইনশৃঙ্খলা)-কে। হাজির থাকবেন স্টেট পুলিশ নোডাল অফিসার এবং সিআইএসএফ-এর নোডাল অফিসারও।
নজর যেখানে
কমিশন সূত্রের খবর, আসন্ন নির্বাচনে ক’দফায় ভোট হবে এবং কত কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা প্রয়োজন, তা নিয়ে এই বৈঠকে প্রাথমিক আলোচনা হতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে এ বার অনেক আগে থেকেই বাহিনীকে ময়দানে নামিয়ে সাধারণ ভোটারদের আস্থা ফেরাতে চাইছে কমিশন। বিশেষত ‘এরিয়া ডমিনেশন’ বা এলাকায় এলাকায় টহলদারির কাজ কবে থেকে শুরু হবে, তা নিয়েও সিদ্ধান্ত হতে পারে আগামিকালের এই মেগা বৈঠকে।
গুরুত্বের কেন্দ্রে সিইও দফতর
একুশের নির্বাচনের মতো ছাব্বিশেও বাংলার ভোট নিয়ে কোনওরকম ফাঁকফোকর রাখতে নারাজ কমিশন। গত কয়েক মাসে ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে সিইও দফতরের প্রশাসনিক স্বশাসন নিয়ে যে চাপানউতর চলেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবারের এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করতে এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) এবং সিআইএসএফ নোডাল অফিসারের উপস্থিতি এই বৈঠককে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে।
নবান্ন ও কমিশনের এই যৌথ দৌত্য আদতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বার্তাই দিতে চাইছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন দেখার, সোমবারের বৈঠক শেষে বাহিনীর রুটম্যাপ নিয়ে কী নির্দেশিকা জারি করে কমিশন।
বস্তুত, রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) প্রেক্ষিতে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী (Central Force) মোতায়েনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। নয়াদিল্লি থেকে এই সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে।
চিঠিতে জানানো হয়েছে, ভোট সংক্রান্ত যাবতীয় দায়িত্ব যেমন, এলাকাভিত্তিক টহল, আস্থা গড়ে তোলা, ইলেকট্রনিক ভোটযন্ত্রের পাহারা, শক্ত ঘাঁটি পাহারা এবং গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই মোতায়েন।
বাহিনী পাঠানোর সূচিও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ১ মার্চ প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানি পৌঁছবে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (CRPF) ১১০, সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (BSF) ৫৫, সিআইএসএফ ২১, তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বাহিনীর (ITBP) ২৭ এবং সশস্ত্র সীমা বলের (SSB) ২৭ কোম্পানি থাকবে।