আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে এবং ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোট হবে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হবে ৪ মে।

জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 15 March 2026 18:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে ভোটার তালিকা (West Bengal Final Voter List) নিয়ে নজিরবিহীন আইনি জটিলতা ও প্রায় ৬০ লক্ষ নাম ‘ঝুলে’ থাকার মধ্যেই বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দিন (West Bengal Election Date) ঘোষণা হয়ে গেল। রবিবার বিকেলে দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে ভোট গ্রহণ (West Bengal Assembly Election 2026) হবে মাত্র দুই দফায়। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে এবং ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোট হবে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হবে ৪ মে।
অ্যাডজুডিকেশনের তালিকায় থাকা ৬০ লক্ষের ভবিষ্যৎ কী?
নির্বাচন কমিশন ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিলেও, এ রাজ্যে ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR) প্রক্রিয়া এখনও অসম্পূর্ণ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ (Under Adjudication) বলে জানানো হয়েছিল। অর্থাৎ, এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিচারাধীন ভোটারদের ভবিষ্যৎ কী?#westbengalelection2026 #gyaneshkumar #dates #phases #westbengalelectiondateannounced #thewallnews pic.twitter.com/2XrgcmtTc2
— The Wall (@TheWallTweets) March 15, 2026
এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে ভোটারের অতিরিক্ত তালিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক হাইকোর্টের তত্ত্বাবধানে বিচারকরা কাজ করছেন। বিচারপ্রক্রিয়া শেষে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশিত হলে সেই নামগুলি বর্তমান তালিকার সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে।”
জ্ঞানেশ কুমার পষ্টাপষ্টি না বললেও তাঁর কথা থেকে ইঙ্গিত হল, ভোটের আগে পর্যন্ত যত পর্যন্ত নাম বিবেচনা করা সম্ভব হবে এবং যোগ্য বলে বিবেচিত হবে, তাঁরাই ভোট দিতে পারবেন। বাকিরা পারবেন না।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বর্তমানে কলকাতা হাইকোর্টের ৭০০-র বেশি বিচারবিভাগীয় আধিকারিক এই তালিকার অসঙ্গতি খতিয়ে দেখছেন। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল প্রতিদিন কাজের অগ্রগতির খবর নিচ্ছেন। শনিবার পর্যন্ত প্রায় ১৮ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মতো জেলায় কাজ প্রায় শেষ হলেও মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর দিনাজপুর ও মালদহে এখনও অনেকটা কাজ বাকি। এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর আগে রাজ্যে ভোটার ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষের বেশি। গত ২৮ তারিখ প্রকাশিত তালিকায় ‘যোগ্য’ ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জন।
কমিশন সূত্রে খবর, ভোটের আগে ধাপে ধাপে আরও কয়েকটি অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। একটি বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই তালিকা তৈরির কাজ চলছে, যার জন্য আদালতের ছাড়পত্র প্রয়োজন। রাজ্যের বিশেষ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এই বিষয়ে আলোচনার জন্য বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন।
মনে করা হচ্ছে, প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যত নামের নিষ্পত্তি হবে, সেই নামগুলিই ভোটার তালিকায় ঠাঁই পাবে এবং তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। যাঁদের নাম বাদ পড়বে, তাঁরা বিশেষ ট্রাইবুনালে আপিল করার সুযোগ পাবেন। তবে সেই ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।
সাধারণত পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা ছাড়া নির্বাচন হওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই অসম্পূর্ণ তালিকা ও ‘বিবেচনাধীন’ নামের এই জটিলতা নিয়ে বিরোধীরা বা সাধারণ ভোটাররা ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। কমিশন ও আদালতের এই বেনজির দড়ি টানাটানির মধ্যে দুই দফার এই ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া কতটা মসৃণ হয়, এখন সেটাই দেখার।