পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৫০ বছর পর দু দফায় বিধানসভার ভোট হতে যাচ্ছে। ১৯৭৭ সালে বিধানসভা ভোট হয়েছিল জুন মাসে। ১১ ও ১৪ জুন ভোট গ্রহণ করা হয় সেবার। ২১ জুন জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় ক্ষমতায় আসে।

শেষ আপডেট: 15 March 2026 17:16
পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৫০ বছর পর দু দফায় বিধানসভার ভোট হতে যাচ্ছে। ১৯৭৭ সালে বিধানসভা ভোট হয়েছিল জুন মাসে। ১১ ও ১৪ জুন ভোট গ্রহণ করা হয় সেবার। ২১ জুন জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় ক্ষমতায় আসে।
১৯৭৭ এর পর ২০২৬ এ ফের দু দফায় ভোট হতে যাচ্ছে। ২০০১ সাল পর্যন্ত ভোট নেওয়া হয়েছে এক দফায়। এক লাফে পাঁচ দফায় ভোট গ্রহণ শুরু হয় ২০০৬ সালে। ২০১১ তে ভোট হয়েছিল ছ দফায়। এরপর ২০১৬ ও ২০২১ এ ভোটগ্রহণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৭ ও ৮ দফায়।
পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে বিরোধীরা একাধিক দফায় ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। এবারই প্রথম তারা উল্টো সুরে দফা কমিয়ে আনার দাবি পেশ করেছিল কমিশনের কাছে।
১৯৭৭ সালে নির্বাচন হয়েছিল জরুরি অবস্থা অবসানের পর। প্রথমে মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয় লোকসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছিল ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের। এরপর কেন্দ্রে জনতা পার্টি সরকার পশ্চিমবঙ্গ, বিহারসহ নয়টি রাজ্যে কংগ্রেস পরিচালিত সরকার ভেঙে দিয়ে নির্বাচন ঘোষণা করে। বাংলায় বিধানসভার ভোট হয় জুন মাসে। সেবার লোকসভা এবং বিধানসভা দুটো নির্বাচনী সম্পন্ন হয়েছিল আধা সামরিক বাহিনীর প্রহরায়। যদিও আজকের মত এত বিপুল সংখ্যায় আধা সেনা তখন ছিল না।
বামফ্রন্টের জমানায় গোড়ায় কংগ্রেস, পরবর্তীকালে তৃণমূল কংগ্রেসসহ সব বিরোধী দল একাধিক দফায় ভোটের দাবি পেশ করে কমিশনের কাছে। যদিও আধা সামরিক বাহিনীর অভাব এবং আরও নানান প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কমিশন বাংলায় ২০০১ সাল পর্যন্ত এক দফাতেই ভোট গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গেই বাংলায় বিধানসভার ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
২০০৬ এ পাঁচ দফায় ভোটের দাবি আদায়ের সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেবার তৎকালীন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বিবি ট্যান্ডন আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বাংলায়। তার মধ্যে অন্যতম হল, সে বারই প্রথম দেশের কোন রাজ্যে নির্বাচন কমিশন ইলেক্টোরাল রোল অবজারভার বা ভোটার তালিকা পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছিল। এছাড়া অজামিনযোগ্য ধারায় অভিযুক্তদের আদালতে অথবা থানায় আত্মসমর্পণ বাধ্যতামূলক করেছিল কমিশন।
২০০৫ সালে একলাফে পাঁচ দফা ভোটের যে সিদ্ধান্ত কমিশন নিয়েছিল তা শেষপর্যন্ত ২০২১-এ আট দফা হয়। সেই প্রবণতার বিপরীতে এবার ভোট হতে যাচ্ছে দু দফায়।