রবিবার বিকেলে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি বিকাশ ঘোষ শান্তনু ঠাকুরের (BJP MP Shantanu Thakur) বাড়িতে পৌঁছন। অভিযোগ ওঠে, সেই সময় তাঁর গাড়ির চাকায় তালা ও শিকল লাগিয়ে দেওয়া হয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 December 2025 22:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠাকুরবাড়ির অন্দরের দ্বন্দ্ব আবারও প্রকাশ্যে। কয়েক মাস আগে ঠাকুরবাড়িতে সিএএ ক্যাম্প (CAA Camp) ঘিরে শান্তনু ঠাকুর (Shantanu Thakur) ও সুব্রত ঠাকুরের (Subrata Thakur) মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা গিয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একবার দুই ভাইয়ের বিবাদ সামনে এল, এবার বিজেপির সাংগঠনিক পদ ঘিরে।
অনেকদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও গাইঘাটা ১ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়নি। এনিয়ে রবিবার উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, এই বিবাদের জেরেই শান্তনু ঠাকুরের বাড়িতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসা বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি বিকাশ ঘোষের গাড়িতে তালা ও শিকল লাগিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বনগাঁ বিজেপির অন্দরে ফের কোন্দল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রবিবার বিকেলে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি বিকাশ ঘোষ শান্তনু ঠাকুরের (BJP MP Shantanu Thakur) বাড়িতে পৌঁছন। অভিযোগ ওঠে, সেই সময় তাঁর গাড়ির চাকায় তালা ও শিকল লাগিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার খবর পেয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন শান্তনু ঠাকুর। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে উপস্থিত হন সুব্রত ঠাকুরও। দুই ভাইয়ের অনুগামীরাও তখন ঠাকুরবাড়ির সামনে ছিলেন।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শান্তনু ঠাকুরকে বলতে শোনা যায়, জেলা সভাপতি তাঁর বাড়িতে এসেছেন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। পাল্টা সুব্রত ঠাকুরও দাবি করেন, তাঁরও সভাপতির সঙ্গে কথা বলার আছে। এই নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত শান্তনু ঠাকুর কাটারি এনে সভাপতির গাড়িতে লাগানো তালা ও শিকল ভাঙার নির্দেশ দেন।
এই ঘটনার জন্য সুব্রত ঠাকুরের দাবি, সামনে ভোট রয়েছে এবং একই সঙ্গে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত কাজও চলছে। কিন্তু গাইঘাটা ১ নম্বর মণ্ডলে এখনও বিজেপির সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয়নি। এর ফলে সাংগঠনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং সেই সুযোগে তৃণমূল ও সিপিএম ওই এলাকায় প্রভাব বাড়াচ্ছে। সুব্রতর বক্তব্য, মণ্ডল সভাপতির নাম ঘোষণা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ কর্মীরাই বিজেপি সভাপতির গাড়িতে তালা লাগিয়েছে।
অন্যদিকে শান্তনু ঠাকুর স্পষ্টভাবে বলেন, বিজেপির জেলা সভাপতির সঙ্গে এমন আচরণ মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্য, মণ্ডল সভাপতির নাম ঘোষণা বা পরিবর্তন করা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কোনও সাংসদ বা বিধায়কের কথায় মণ্ডল সভাপতি ঠিক করা হয় না।
এই গোটা ঘটনা নিয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি বিকাশ ঘোষ প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। সংক্ষেপে তিনি জানান, সাংসদ যা বলেছেন, সেটাই তাঁর বক্তব্য। রবিবারের এই ঘটনার পর বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার বিজেপির অন্দরে যে মতানৈক্য ও দ্বন্দ্ব এখনও মিটেনি, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। আর অন্যদিকে এই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধী দলগুলি কটাক্ষ করছে।