বৃহস্পতিবারই প্রকাশিত হয়েছে এনআইআরএফ এর ২০২৫ সালের র্যাঙ্কিং। তাতে আরও একটু নেমে গেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান। মনখারাপের মধ্যেই এই চিপ ডিজাইনে সাফল্য ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছে এ রাজ্যের সবথেকে ঐতিহ্যশালী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র গবেষকদের।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 6 September 2025 08:59
মঙ্গলবার ‘সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৫’ সম্মেলনের উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi) বলেছিলেন, তেলকে যেমন একসময় ‘কালো সোনা’ বলা হত, তেমনই সেমিকন্ডাক্টর চিপ (Semiconductor Chips) এখন ‘ডিজিটাল হিরে’। তিনি দাবি করেছিলেন ভারতই গড়ে তুলবে ভবিষ্যতের সেমিকন্ডাক্টর দুনিয়া। শুধু চিপ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়, সেমিকন্ডাক্টরকে ঘিরে গোটা এক ইকোসিস্টেম তৈরি করছে ভারত।
দেশজুড়ে প্রধানমন্ত্রীর এই স্বপ্নকে লালন করছে যাঁরা, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Calcutta University) রেডিও ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক-ছাত্র ও গবেষকরাও (Radio Physics Researchers))। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশনের পরবর্তী ধাপে কাজ শুরু করেছে। নতুন ‘ডিজাইন-লিঙ্কড ইনসেনটিভ প্রকল্পকে বাস্তব রূপ দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েও। বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডক্টর সৌম্য পণ্ডিত জানান, টেলিভিশন-কম্পিউটার-মোবাইল ফোন সবকিছু তৈরির জন্যই এই ধরণের চিপ আগে বাইরে থেকে আমদানি করতে জিডিপির একটা বড় অংশ খরচ হয়ে যেত। এটা বন্ধ করতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই চিপ যাতে দেশের ভিতরেই তৈরি করা যায়, সেই পদক্ষেপ নেন। দেশের আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিও ফিজিক্স বিভাগেও শুরু হয় গবেষণা। সম্প্রতি সেই গবেষণাতেই এসেছে সাফল্য। এই চিপ ডিজাইন করতে পেরেছে।
ডক্টর পণ্ডিত বলেন, ‘‘এই যে বিশাল কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে, তাতে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট জিজাইনার যেমন আমাদের দরকার, তেমনই সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্টও দরকার। ইতিমধ্যেই গুজরাট, অসম, কর্ণাটক সহ মোট চারটি জায়গায় এই সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্ট তৈরি হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ৮৫ হাজার ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট জিজাইনারের প্রয়োজন পড়বে। প্রতিবছর দরকার ১৭ হাজার ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট জিজাইনার। এতদিন দেশে আমরা সেভাবে চিপ ডিজাইন করতে পারতাম না, কারণ এটা সফটওয়্যার টুলসগুলি এতটাই ব্যয়বহুল যে আমাদের অ্যাকাডেমিক ইনস্টিটিউশনগুলির পক্ষে এগুলি কেনা সম্ভব ছিল না। এখন এই চিপ টু স্টার্ট আপ প্রোগ্রামের আওতায় আসার ফলে এই কাজটা সহজ হয়েছে। কারণ আমাদের গবেষণাগারগুলি এখন খুবই সমৃদ্ধ হয়েছে।’’
মঙ্গলবারই প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘বিশ্ব আজ ভারতের উপর আস্থা রাখছে, বিশ্বাস রাখছে। ২০২১ সালের পর থেকে ১০টি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পে প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভারতই গড়ে তুলবে ভবিষ্যতের সেমিকন্ডাক্টর দুনিয়া।”
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিও ফিজিক্স বিভাগের শিক্ষক সৌম্য পণ্ডিত জানান, ২০২৩ সাল থেকে তাঁদের ডিপার্টমেন্টের ছাত্র ও গবেষকরা এই চিপ ডিজাইন করছেন। এখন ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের কাজও শুরু হয়ে গেছে। এই রাজ্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি খড়্গপুর আইআইটি, শিবপুর ও ম্যাকাউট হরিণঘাটাতেও এই চিপ ডিজাইনিংয়ের কাজ চলছে।
বৃহস্পতিবারই প্রকাশিত হয়েছে এনআইআরএফ এর ২০২৫ সালের র্যাঙ্কিং। তাতে আরও একটু নেমে গেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান। মনখারাপের মধ্যেই এই চিপ ডিজাইনে সাফল্য ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছে এ রাজ্যের সবথেকে ঐতিহ্যশালী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র গবেষকদের।