আজ শান্তা দেবীর মুখে স্বস্তির হাসি। কিন্তু লড়াইটা এত সহজ ছিল না।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য
শেষ আপডেট: 28 August 2025 16:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হৈ হৈ করে পালিত হল তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবস। প্রতি বছরের মতো এ দিনও মেয়ো রোডে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যোগ দেন ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের ছাত্র-যুবরা। একদিকে যখন আন্দোলনের বার্তা দিচ্ছেন সুপ্রিমো বা বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার স্লোগান তুলছেন তখন পরীক্ষার হলে প্রশ্নের উত্তর লিখলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। হাজারো চেষ্টা, অনুরোধ সত্ত্বেও বদলাল না সূচি। নৈতিক জয় হল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য শান্তা দত্ত দে-র।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালীন তিনি সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানালেন, এমনই তো হওয়ার ছিল। পরীক্ষা এমন কোনও কারণে পিছিয়ে দেওয়া হবে কেন। যেখানে পরীক্ষা দিতে পড়ুয়াদের বা তাঁদের অভিভাবকদের কোনও আপত্তি নেই, সেখানে হঠাৎ কোনও সংগঠনের কর্মসূচির জন্য এমন হওয়া তো ঠিক নয়।
আজ শান্তা দেবীর মুখে স্বস্তির হাসি। কিন্তু লড়াইটা এত সহজ ছিল না। রাজ্যের শাসক দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি, সেখানে BA, BSc, B.Com ও B.A. LLB-র চতুর্থ সেমিস্টারের পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য সুরেন্দ্রনাথ, বঙ্গবাসী-সহ বেশ কয়েকটি কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে আবেদন করা হয়। তাদের দাবি ছিল, ছাত্রছাত্রী, নন-টিচিং স্টাফ, এমনকি কিছু সংগঠনও নাকি পরীক্ষায় অংশ নিতে রাজি নন। ২৮ অগস্ট পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থীদের একাংশ সমস্যায় পড়বেন।
কিন্তু সেই আর্জিকে গুরুত্বই দেননি শান্তা দত্ত দে। তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, 'পরীক্ষা কি কোনও পিকনিক না কি? বিশ্ববিদ্যালয় তার অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পরীক্ষার দিন ঘোষণা করে। পরীক্ষায় বসা পড়ুয়ার দায়িত্ব, অধ্যক্ষ যদি চিঠি ফরওয়ার্ড করে দেন, তবে শিক্ষায় ডিসিপ্লিন বলে কিছু থাকবে না।'
উপাচার্য আরও জানান, পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। এটা সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত। সেই সঙ্গে প্রায় ৩০ হাজার পরীক্ষার্থী যাতে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিতে পারেন, তার জন্য কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের পদস্থ কর্তাদের কাছে লিখিত আবেদন করেন। এরপর কলেজ স্ট্রিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরে মঞ্চ বেঁধে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতারা উপাচার্যের বিরুদ্ধে তীব্র কটূক্তি করেন। পরীক্ষার দিন পাল্টানোর জন্য আবেদন জানান খোদ মুখ্যমন্ত্রীও। কিন্তু সিন্ডিকেট সিদ্ধান্তে অনড় ছিল।
সেবিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের বক্তব্য, 'এমন কারণে পরীক্ষার তারিখ পাল্টাতে গেলে তো হাজার একটা সংগঠনের জন্য পরীক্ষা পাল্টাতে হয়। আমি আগেই বলেছিলাম, এটা হবে না। আর ছাত্র-ছাত্রীরা বা অভিভাবকরা কিছু বলেননি। তাঁদের পরীক্ষা বদলানোর কোনও দাবি ছিল না। পরীক্ষা দেব না এমন কেউ বলেনি। পরীক্ষা দিতে তো আসলে একটা মানসিক প্রস্তুতি লাগে, সেই প্রস্তুতি নিয়ে নেওয়ার পর তো পিছিয়ে দেওয়া যায় না। ওরাও দেখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ওদের জন্য, পড়াশোনার জন্য লড়ছে, তাই হয়তো ওরা (পড়ুয়ারা) কেউ কোনও কথা বলেনি।'
আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার একদিকে যখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ছিল তখন অন্যদিকে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়েরও পরীক্ষা ছিল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা হলেও বর্ধমানে পিছিয়ে যায়। এই প্রসঙ্গে সেভাবে কোনও মন্তব্য করতে চাননি শান্তা দত্ত দে। শুধু প্রশ্ন তুললেন, বর্ধমানের উপাচার্য বলেছেন, তাঁদের পরীক্ষাটা ইন্টারনাল ছিল। তাই সমস্যা হয়নি। তেমন হলে তো পরীক্ষাটা নাই পিছনো যেত!
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রিকোয়েস্ট করেছিলেন, প্রশ্নের উত্তর শেষের আগে তাঁর বক্তব্য, 'উনি রিকোয়েস্ট করলেন কী করে, আমার খুব খারাপ লাগছে, ওঁর এই ধরনের অনুরোধ না করাই উচিত ছিল।'