হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের জারি করা লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষ এবং তাঁদের আইনজীবী ছাড়া আর কেউ এজলাসে প্রবেশ করতে পারবেন না।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 14 January 2026 11:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার আইপ্যাকে ইডি অভিযান (IPAC ED Raid) সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। তবে এই মামলার শুনানি আদৌ হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। কারণ ইতিমধ্যে এই ইস্যু সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) বিচারাধীন। তাই হাইকোর্ট এই মামলা শুনবে কিনা তা নিয়েই প্রশ্ন। সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট কী বলছে - এই পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ (Justice Subhra Ghosh) আজও শুনানির দিন পিছিয়ে দিতে পারেন বলেই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
যদিও আজ এই মামলার শুনানির আগেই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) ও তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) পাল্টা মামলার শুনানিকে ঘিরে যাতে আর কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য আগাম কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে আদালতের তরফে। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে আজ বেলা আড়াইটে নাগাদ এই দুই মামলার একসঙ্গে শুনানি হওয়ার কথা।
হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের জারি করা লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শুনানির সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষ এবং তাঁদের আইনজীবী ছাড়া আর কেউ এজলাসে প্রবেশ করতে পারবেন না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁরা সরাসরি শুনানিতে উপস্থিত থাকতে পারবেন না, তাঁদের জন্য পুরো শুনানি প্রক্রিয়া লাইভ স্ট্রিমিংয়ের (Live Stream Hearing) মাধ্যমে দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থাৎ, মামলার সঙ্গে যুক্ত নন - এমন কেউ শুনানি দেখতে চাইলে তাঁকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হতে হবে।
এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা। গত ৯ জানুয়ারি এই মামলার শুনানির দিন কোর্টরুমে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। শুনানি শুরু হওয়ার আগেই এজলাসে বিপুল ভিড় জমে যায়। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও হট্টগোল থামেনি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন। সেই দিন কোনও শুনানি হয়নি এবং মামলার তারিখ পিছিয়ে ১৪ জানুয়ারি করা হয়।
আইপ্যাকের সল্টলেক সেক্টর ফাইভের দফতর (IPAC Kolkata) এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের (IPAC Pratik Jain) লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে ইডির তল্লাশিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও আইনি টানাপড়েন এই মামলার সূত্রপাত। তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। ওই মামলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পার্টি করা হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তৃণমূল কংগ্রেস। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চেই এই দুই মামলার শুনানি হওয়ার কথা।
গত শুনানির দিন দুপুর ২টা ৩৮ মিনিট নাগাদ পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও এজলাসে ভিড় না কমায় বিচারপতি লিখিত নির্দেশে জানান, ওই দিনের মতো শুনানি স্থগিত রাখা হচ্ছে। আদালত তখনই জানিয়ে দেয়, ১৪ জানুয়ারি মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।
সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই এ বার আগাম এই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে আদালত সূত্রে খবর। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই মামলার শুনানি ঘিরে আজ তাই নজর থাকবে কলকাতা হাইকোর্টের দিকে। এজলাসের ভিতরে নয়, অনেকের চোখ থাকবে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের পর্দাতেই।