গত ৬ অক্টোবর উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা এলাকায় বিক্ষোভের মুখে পড়েন দুই বিজেপি নেতা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 14 October 2025 16:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতিতে (North Bengal Flood) নাগরাকাটায় (Nagrakata) ত্রাণ বিলি করতে গিয়ে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু (Khagen Murmu) এবং বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh) হামলার সম্মুখীন হন। সেই হামলার ঘটনার রিপোর্ট (Report) তলব করেছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের নির্দেশ, পুলিশকে এই মামলার কেস ডায়রি (Case Diary) জমা দিতে হবে জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৭ অক্টোবর।
গত ৬ অক্টোবর উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা এলাকায় বিক্ষোভের মুখে পড়েন দুই বিজেপি নেতা (BJP Leaders)। অভিযোগ, একদল মানুষ লাঠি ও জুতো নিয়ে তাদের ওপর চড়াও হন। নদী থেকে পাথর তুলে তাঁদের গাড়ির দিকে ছোড়া হয়। খগেনের মুখে আঘাত লাগে, বাঁ চোখের তলা থেকে রক্ত ঝরে। শঙ্করের হাতেও চোট লাগে। পরে দু’জনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার তদন্তে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত। জনস্বার্থ মামলার (PIL) আবেদনকারীর আইনজীবী অনিন্দ্য সুন্দর দাস দাবি করেন, খগেন-মুর্মুর ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা হয়েছে, যা খুনের চেষ্টার দণ্ডের যোগ্য। তবে পুলিশ সেই ধারা অন্তর্ভুক্ত করেনি। মামলাকারীর আবেদন, তদন্তভার এনআইএ-র হাতে দেওয়া হোক।
গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ (Police Investigation) থাকা সত্ত্বেও পুলিশ সাংসদ-বিধায়ককে রক্ষা করেনি, এমনকী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কোনও এফআইআর হয়নি। এমনকি যাদের প্রথমে গ্রেফতার করা হয়, তাদের নামও FIR-এ ছিল না! এই অভিযোগকে হাতিয়ার করে কলকাতা হাইকোর্টে যায় বিজেপি।
গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, “যাঁদের ওপর হামলা হয়েছে তাঁরা জনপ্রতিনিধি। তাঁদের সুরক্ষা কি নেই? এত বড় ঘটনায় যদি পুলিশই নিষ্ক্রিয় থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ বিচার পাবে কোথায়?” সেই কারণেই এনআইএ তদন্তের দাবি উঠেছে বিজেপির তরফে। দলের রাজ্য নেতারা বলছেন, “এটা নিছক আক্রমণ নয়, গণতন্ত্রের ওপর আঘাত।”
তবে মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি এনআইএ-কে তদন্তভার দেওয়ার বিষয়ে মন্তব্য না করলেও, রাজ্যের কাছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছেন এবং পুলিশকে কেস ডায়রি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।