আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজ্যের পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা সন্তোষজনক নয়। কেন এতদিনেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 November 2025 14:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) নিরাপত্তা জোরদার করা নিয়ে রাজ্য সরকার (State Govt) ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থানে অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সিসিটিভি (CCTV) বসানো ও নিরাপত্তারক্ষী (Security) মোতায়েনের বিষয়ে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজ্যকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে হলফনামা জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের বেঞ্চ জানিয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) মতো প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তার মানদণ্ড নিয়ে কোনও রকম শিথিলতা প্রশ্রয়যোগ্য নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজ্যের পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা সন্তোষজনক নয়। কেন এতদিনেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University) চত্বরে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের কাজ সম্পন্ন করতে কতদিন সময় লাগবে, সেটি নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য সরকারকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত হলফনামা পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে বেঞ্চ। পাশাপাশি, কেন আগের নির্দেশ সত্ত্বেও কাজের গতি সন্তোষজনক নয়, সেটিরও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থার উন্নতির জন্য ইতিমধ্যেই ৬৭ লক্ষ টাকারও বেশি বরাদ্দ করেছে রাজ্যের অর্থ দফতর (State Govt)। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আবার এই মামলার শুনানি হবে। তার আগে হলফনামা জমা না পড়লে বা সময়সীমা উল্লেখ না থাকলে আদালত আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতে ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ছাত্রদের নিরাপত্তা, হস্টেল চত্বরের নজরদারি এবং ক্যাম্পাসের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের পর এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। নতুন নির্দেশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও রাজ্যের প্রতিক্রিয়া - উভয় দিকেই এখন নজর শিক্ষামহল ও আদালতের।