বস্তুত, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য দায়িত্ব নিয়েই জানিয়েছিলেন যে তিনি ছাত্র সংসদ নির্বাচন করতে চান। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ ছাত্রভোট হয়েছে ২০২০ সালে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
শেষ আপডেট: 21 November 2025 12:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University Election) নির্বাচনী ঘণ্টা বাজল। পাঁচ বছরের বিরতির পর ফের হতে চলেছে ভোট। তবে ছাত্র সংসদের (Student Union) নয়, আইসিসি-র গবেষক প্রতিনিধি বাছাইয়ের। রাজ্যে এই প্রথম কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক-পড়ুয়ারা সরাসরি ভোটে অংশ নিচ্ছেন অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিরসন কমিটিতে প্রতিনিধিত্বের জন্য। ফলে ক্যাম্পাসে এখন নানা ছাত্র সংগঠনের দাপাদাপি, ব্যস্ততা আর পোস্টার-ব্যানারের ছড়াছড়ি (Kolkata News)।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, ভোট হবে ২৭ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার। দুপুর আড়াইটে শুরু হয়ে চলবে সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা পর্যন্ত। ভোটার সংখ্যা মোট ২,৩০০ গবেষক-ছাত্রছাত্রী। ইতিমধ্যে ৫ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। যদিও ভোটের আনুষ্ঠানিক নির্ঘন্ট এখনও ঘোষণা করেনি কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) দাবি, এই নির্বাচন ‘বেআইনি’। সংগঠনের সভাপতি কিশলয় রায় অভিযোগ করেছেন, ভোটার তালিকাই প্রকাশ হয়নি। মনোনয়ন জমা হয়ে গেছে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়া তো দূরের কথা, গোটা নির্বাচনে অস্বচ্ছতা ঢেকে আছে। তৃণমূল শিবিরের প্রার্থী না থাকলেও তারা ভোট বয়কট করেনি— বরং সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ভোটের দাবিতে সরব হয়েছেন।
অন্যদিকে, বাম-সমর্থিত গবেষক প্রার্থী রচয়িতা ঘোষ মনে করছেন, এই ভোট গবেষকদের জন্য পথ খুলে দিতে পারে। তাঁর দাবি, আইসিসি-তে প্রতিনিধি থাকলে গবেষকদের পরিচিতি বাড়বে। অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি বা ওয়েলফেয়ার বোর্ডে গবেষকদের প্রতিনিধিত্বের দরজাও খুলবে।”
উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য অবশ্য ছাত্র সংগঠনগুলির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, যেহেতু এখন কোনও ছাত্র সংসদ নেই, তাই নিয়ম মেনেই গবেষক প্রতিনিধি নির্বাচন করা হচ্ছে। আইসিসিতে একজন গবেষক প্রতিনিধি থাকা বাধ্যতামূলক।
বস্তুত, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য দায়িত্ব নিয়েই জানিয়েছিলেন যে তিনি ছাত্র সংসদ নির্বাচন করতে চান। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ ছাত্রভোট হয়েছে ২০২০ সালে। কলকাতা-সহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয় এবং তাদের অধীনস্থ কলেজগুলিতে শেষ ছাত্রভোট হয়েছে ২০১৭ সালে। তার পর থেকে আর কোনও কলেজে ছাত্রভোট হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ হয়েছে। জনস্বার্থ মামলা হয়েছে আদালতে। কিন্তু এখনও ভোট করানো সম্ভব হয়নি। কোনও কলেজেই নির্বাচিত ছাত্র সংসদ নেই।
গত অগস্ট মাসে হাই কোর্টে এক মামলায় হাজির হয়ে রাজ্য সরকার দাবি করেছিল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সদিচ্ছার অভাবেই ভোট করানো যাচ্ছে না। সে বারই রাজ্যের দাবি খণ্ডন করেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়েছিলেন, তাঁরা সরকারি নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন।