হাইকোর্ট আরও জানিয়েছে, ২১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির সংখ্যা চিহ্নিত হয়েছে, সেটিই চূড়ান্ত হিসেবে ধরা হবে। সেই নির্দিষ্ট সংখ্যাটি অবিলম্বে কমিশনকে জানাতে হবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 February 2026 17:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Elections 2026) আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর (West Bengal SIR) নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বৈঠকে (Calcutta High Court SIR Meeting) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করেছে আদালত। ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে ১০০ জন করে মোট ২০০ জুডিশিয়াল অফিসার (Judicial Officers For West Bengal SIR) চেয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের কাজের ধরন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বাইরে থেকে আসা জুডিশিয়াল অফিসারদের দায়িত্ব বণ্টন, আবাসন ও খাদ্যের ব্যবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ সন্ধের মধ্যেই যাঁদের আইডি তৈরি হয়নি, তাঁদের পরিচয়পত্র প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু করাই এখন লক্ষ্য।
হাইকোর্টের বৈঠকে আরও উঠে এসেছে, ২১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসঙ্গতির সংখ্যা চিহ্নিত হয়েছে, সেটিই চূড়ান্ত হিসেবে ধরা হবে। সেই নির্দিষ্ট সংখ্যাটি অবিলম্বে কমিশনকে জানাতে হবে। প্রতিদিন সমস্ত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকের কাজের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত রিপোর্ট তৈরি করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। সেই রিপোর্ট বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক হবে এবং নিয়মিত হাইকোর্টে জমা দিতে হবে।
এর আগে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। তথ্যগত অসঙ্গতি মেটাতে উচ্চ আদালতের তত্ত্বাবধান প্রয়োজন বলেও মত দেয় শীর্ষ আদালত। সেই প্রেক্ষিতেই কলকাতা হাইকোর্টকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এই আধিকারিকরাই তথ্যগত গরমিল খতিয়ে দেখে নিষ্পত্তি করবেন বলে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই এ নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে ভোটার তালিকা নির্ভুল করতে আদালতের নজরদারি আরও কড়া হল। প্রশাসন ও কমিশনের ভূমিকা এখন বিচার বিভাগের পর্যবেক্ষণে। নির্বাচনী প্রস্তুতির অগ্রগতি তাই আপাতত আদালত-নির্ভর বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।
ইতিমধ্যে আবার নিষ্পত্তি না হওয়া ৬০ লক্ষ ভোটারকে নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ কমিশন স্পষ্ট করেছে, ২৮ তারিখের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় এই ৬০ লক্ষ নাম থাকছে না।
তথ্য বলছে, ১ কোটি ২০ লক্ষ তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ (Logical Discrepency) এবং ৩২ লক্ষ ‘আনম্যাপড’ (Unmapped Voters) নাম মিলিয়ে বিপুল জট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম কলকাতা হাইকোর্ট গঠিত কমিটির (Calcutta High Court) মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসাররা নথি যাচাই করছেন বটে, কিন্তু সূত্রের দাবি, যে নামগুলি তাঁরা অনুমোদন করছেন, সেগুলি মূল চূড়ান্ত তালিকার জন্য নয়, সম্ভাব্য অতিরিক্ত তালিকার জন্য বিবেচিত হচ্ছে।
অর্থাৎ, কোনও নাম সঠিক বলে বিবেচিত হলেও তা কবে প্রকাশিত হবে, তা অনিশ্চিত। সিইও দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত যাঁদের নাম বৈধ তালিকায় থাকবে, তাঁরাই ভোট দিতে পারবেন। প্রশ্ন উঠছে, সেই সময়সীমার মধ্যে অতিরিক্ত তালিকা আদৌ প্রকাশ করা সম্ভব কিনা।