উভয় পক্ষের সওয়াল শেষে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, রায়দান আপাতত স্থগিত রাখা হল। মামলাকারীদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আদালতের সেই রায়ের দিকেই।

কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 14 July 2025 18:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির (Recruitment Scam) পর বাতিল হওয়া প্রায় ২৬ হাজার চাকরি (Jobless Teachers) নিয়ে ফের আইনি লড়াই চরমে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে (Calcutta High Court) সোমবার শুনানি হয়। তবে বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাস শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রেখেছেন।
রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (AG) কিশোর দত্ত এদিন আদালতে জানান, “সুপ্রিম কোর্ট পুরনো নিয়োগ বাতিল করলেও, ২০১৬ সালের নিয়মেই ফের নিয়োগ করতে হবে এমন নির্দেশ দেয়নি। শুধু বলেছে শূন্যপদ পূরণ করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই এসএসসি নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এসএসসি-র বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হয়েছে। প্রায় ১৮০টি রিভিউ পিটিশনও জমা পড়েছে। কারও আপত্তি থাকলে, সঠিক জায়গা সুপ্রিম কোর্ট।” তবে মামলাকারীদের পক্ষে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের সাফ বক্তব্য, “আগের নিয়োগ দুর্নীতির জন্য বাতিল হয়েছে। সেই শূন্যপদে নিয়োগ করতেই হবে। নতুন নিয়ম করে এসএসসি যোগ্যতার মান বদল করেছে, যা বেআইনি।”
এদিকে এসএসসি-র আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা বলেন, “এসএসসি-র নিয়োগে কোন নিয়ম কার্যকর হবে, সেটা কমিশনের এক্তিয়ার। কেউ ২০১৯ সালের নিয়োগ বিধিকে চ্যালেঞ্জ করেননি। তবু সেটা মেনেই নিয়োগ বাতিল হয়েছে। যোগ্যতা থাকলে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বসুন, চাকরি পেতে সমস্যা কোথায়?”
অন্যদিকে আইনজীবী অনিন্দ্য মিত্রের বক্তব্য, “এসএসসি ইচ্ছাকৃতভাবে যোগ্যতার মান বদলে নিয়োগ করছে। সুপ্রিম কোর্ট প্যানেল বাতিল করেনি, শুধু নিয়োগ বাতিল করেছে। তাই নতুন করে নিয়োগের নামে এসএসসি শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করছে।”
উভয় পক্ষের সওয়াল শেষে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, রায়দান আপাতত স্থগিত রাখা হল। মামলাকারীদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আদালতের সেই রায়ের দিকেই। আপাতত এসএসসি-র নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যকর থাকবে কি না, তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আদালতের চূড়ান্ত রায় পর্যন্ত।