আপাতত কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশ মুলতুবি রাখার আবেদন ছিল কেন্দ্রের। ওই আবেদনও নাকচ করে দেয় আদালত।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 September 2025 12:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant Worker) ইস্যুতে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বীরভূমের দুই পরিবারের মোট ছয় সদস্যকে বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অন্তঃসত্ত্বা সোনালী বিবিও (Sonali Bibi)।
কেন্দ্র (Central Govt) সোনালী বিবি-সহ এই ছ’জনকে বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই পদক্ষেপের সমালোচনা করে সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিল হাইকোর্ট। আদালতের স্পষ্ট মন্তব্য, এঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণিত এবং তাঁদের দেশে ফেরানোর দায়িত্ব সরকারেরই। তাঁদের চার সপ্তাহের মধ্যে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আপাতত কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশ মুলতুবি রাখার আবেদন ছিল কেন্দ্রের। ওই আবেদনও নাকচ করে দেয় আদালত।
এই মামলার গত শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, আইন অনুযায়ী অন্তত ৩০ দিন আটক রেখে তদন্ত করা দরকার। অথচ সোনালি বিবিকে ২৬ জুনই বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ। আদালতের প্রশ্ন ছিল, মাত্র দু’দিনে কীভাবে সিদ্ধান্ত হল যে তাঁরা বাংলাদেশি? এত তাড়াহুড়ো কেন করা হল?
শুনানিতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়। অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তীর বক্তব্য, ঘটনা দিল্লিতে ঘটেছে, তাই কলকাতা হাইকোর্টের এক্তিয়ার নেই। তিনি অভিযোগ করেন, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা হয়েছে এবং এই মামলা গ্রহণযোগ্য নয়। দিল্লি পুলিশের আইনজীবীর দাবি, সোনালির পরিবার এখনও পর্যন্ত হলফনামায় প্রমাণ করেনি যে তাঁরা বাংলাদেশি নন।
এই যুক্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি চক্রবর্তী। তিনি বলেন, আটকের নির্দেশে লেখা আছে তাঁদের বাঙালি বস্তি থেকে আনা হয়েছে। কেবল তাই বলে কি বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করবেন? বেঞ্চ মামলাকারীর আইনজীবীদেরও প্রশ্ন করে জানায়, দেশ থেকে বহিষ্কারের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। তাই কোন ভিত্তিতে আদালত নির্দেশ দেবে, তা স্পষ্ট করতে হবে।
প্রসঙ্গত, সোনালি ও তাঁর পরিবার দিল্লির রোহিণীতে প্রায় দুই দশক ধরে কাগজকুড়োনো ও গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। পরিবারের অভিযোগ, জুন মাসে দিল্লি পুলিশ তাঁদের ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং পরে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। গত ২৯ অগস্ট সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, সোনালির পুশব্যাক নিয়ে করা হেবিয়াস কর্পাস মামলা শুনবে কলকাতা হাইকোর্ট। সেই মামলাতেই এল নির্দেশ।