টলিউডে এবার যেন একেবারে সম্মুখ সমর। যা মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও ছিল নিছক ইঙ্গিত, তা এখন দাঁড়িয়েছে সরাসরি কটাক্ষে। একপাশে দেবের ‘রঘু ডাকাত’, অন্যপাশে ‘রক্তবীজ-২’।
.jpeg.webp)
দেব-কুণাল
শেষ আপডেট: 25 September 2025 20:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টলিউডে এবার যেন একেবারে সম্মুখ সমর। যা মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও ছিল নিছক ইঙ্গিত, তা এখন দাঁড়িয়েছে সরাসরি কটাক্ষে। একপাশে দেবের ‘রঘু ডাকাত’, অন্যপাশে ‘রক্তবীজ-২’। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ গত কয়েক দিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক মন্তব্যে আগুন ঝরাচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, প্রযোজক রাণা সরকারের সঙ্গে সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় ধস্তাধস্তি পর্যন্ত হয়েছে তাঁর। ‘রক্তবীজ-২’-এর হয়ে লড়াই করতে গিয়ে কুণাল একের পর এক পোস্ট করেছেন, এমনকি ভিডিও বানিয়ে ছবির রিভিউ পর্যন্ত দিয়েছেন।
ঠিক ছিল, ২৫ তারিখ মুক্তি পাবে দেবের ‘রঘু ডাকাত’। ঘোষণার পরদিনই ঠিক হয় ‘রক্তবীজ-২’ও একই দিনে প্রেক্ষাগৃহে আসবে। তাই, সকাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে পোস্টের সুনামি, দর্শকের রিভিউ আর শোরগোল। এর মধ্যেই ভাইরাল হয় একটি বিশেষ পোস্ট।
এক্স হ্যান্ডেল-এ ‘দেবভক্ত’ অভিজিৎ অধিকারী একটি স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। তাঁর ক্যাপশন—“দাদা, কুণাল ঘোষ তোমার এগেনস্টে এরম জিনিস করছে সকাল ৯:৫৫তে, কীভাবে সম্ভব? তুমি জীবনে যতটুকু ট্রোল হও এখন সেটা রাজনৈতিক দলের জন্য, আজ তার মুখপাত্র এরম করছে, আর চুপ থেকো না। চুপ থাকা মানে দূর্বল নয়, এবার বুঝিয়ে দাও!”
মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়। ট্যাগড থাকার কারণে দেবের চোখেও পড়ে। আর দেবের প্রতিক্রিয়া—মাত্র পাঁচটি শব্দে—“রিল্যাক্স...করতে দাও। ভগবান আছে!”
কুণাল ঘোষ এই পোস্টটি টেনেই সরাসরি জবাব দিয়ে লেখেন—“সিনেমার খুঁটিনাটি জানতে রিলিজ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়? এর মধ্যে যারা দেখেছেন, তাদের চিনি না???? আমি গতকালই লিখতে পারতাম। কন্টেন্ট ঠিক থাকলে Relaxটা রিলিজের আগেই হত। জেলায় জেলায় নেতাদের সৌজন্যে/সম্পর্কের খাতিরে প্রমোশন অনুষ্ঠান, হলের বেশি শো, হল মালিকদের সঙ্গে দেখা করতে হলে ছুটে যাওয়া, টিকিটের দাম বাড়ানো কমানো, বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি, এগুলো করতে হত না। চারটে সিনেমাকে সমান সুযোগ দিয়ে ‘ভগবান আছে’ বলে বিশ্বাস রাখা গেল না???????? তাহলে স্মার্টনেসটা বুঝতাম।”
এর আগেই কুণাল ‘দ্য ওয়াল’কে ‘রঘু ডাকাত’-এর অতিরিক্ত শো পাওয়া নিয়ে জানিয়েছিলেন— “‘রক্তবীজ ২’—যার প্রথম পর্ব সুপারহিট—তাকেও কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে। এটা কাম্য নয়। সমান সুযোগ পাওয়া উচিত। তারপর দর্শকের বিচারে প্রতিযোগিতা হোক। নইলে এত বৈঠকের মানেই বা কী? যারা বৈঠক করেছিলেন, তারা এখন কী করছেন? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে নজর দিন। হল মালিকরাও নিরপেক্ষ থাকুন। চারটি ছবি—‘রক্তবীজ ২’, ‘রঘু ডাকাত’, ‘দেবী চৌধুরাণী’, ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’—সমানভাবে আত্মপ্রকাশ করুক। তারপর দর্শকের বিচারে দৌড় চলুক। যদি কোনো ছবি নেপথ্য প্রভাবে বাড়তি সুবিধা পায়, প্রতিবাদ হবেই।”
কিন্তু প্রশ্ন উঠল—‘প্রভাবশালী’ বলতে কাকে বোঝাচ্ছেন কুণাল? কে পাচ্ছে অতিরিক্ত শো? সরাসরি জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন—“আর কে রঘু ডাকাত!” অতঃপর আরও খোঁচা—“যেভাবে জেলায় জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাড়ে চড়ে ‘রঘু ডাকাত’-এর প্রমোশন চলছে, তাতে ছবিটার ক্রেডিট লাইনে তৃণমূলের নাম থাকা উচিত।”
এদিকে দেব-ইধিকা ও টিম ‘রঘু ডাকাত’ পুজোর প্রচারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন জেলা থেকে জেলায়। রায়গঞ্জ থেকে শুরু করে একাধিক জেলা সদরে প্রচারের আসরে দেখা যাচ্ছে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের। প্রশ্ন উঠেছে—দেব সাংসদ বলেই কি এ বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন?
আজ সকালে নৈহাটির বড়মার মন্দিরে পূজো দিতে হাজির হন দেব-ইধিকা সহ পুরো টিম। পুজোর পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেব ফের কুণাল প্রসঙ্গে তির্যক মন্তব্য করেন—“দেবের বন্ধু হতে গেলেও যোগ্যতা লাগে আর শত্রু হতে গেলেও যোগ্যতা লাগে। কিন্তু কুণাল ঘোষ আমার গুরুর মতো।”
ধূমকেতুর সময়ও শুভশ্রীকে নিয়ে নৈহাটির বড়মায়ের পুজো দিতে এসেছিলেন দেব। এবারও নতুন ছবির সাফল্যের প্রার্থনায় একই মন্দিরে হাজির। দেব জানান— “আমার ওপর বড়মার আশীর্বাদ রয়েছে। তাই বারবার এখানে ফিরে আসি। আমি কাউকে ছোট করে উপরে উঠতে চাই না। আমি চাই বাঙালিয়ানা আর বাংলা ছবিকে ভারতের সামনে তুলে ধরতে। কে আমার মুভি রিলিজের আগেই খারাপ বলে রিভিউ লিখছে, সেটা নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই। সবাই দেখেছে কে খাটছে। আমি মনে করি দেবের বন্ধু হতেও যোগ্যতা দরকার, শত্রু হতেও যোগ্যতা দরকার। আর কুণাল ঘোষ আমার বন্ধু নন, উনি আমার গুরুর মতো। উনি সোশ্যাল মিডিয়ায় যা বললেন, তা নিয়ে কিছু বলব না। ওনাকে শুভেচ্ছা জানাই।”
সব মিলিয়ে ‘রঘু ডাকাত’ বনাম ‘রক্তবীজ-২’ নিয়ে টলিউডের ময়দান এখন কার্যত আগুনে। কুণালের তোপ, দেবের পাল্টা খোঁচা—সব মিলে সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তাপ তুঙ্গে।