আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, এসএসসি সাত দিনের মধ্যে নাহিদার নিয়োগের সময়সীমা বাড়িয়ে দেবে এবং সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁকে নিয়োগপত্র তুলে দেবে।

কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 11 July 2025 17:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকরি হারানোর পরে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) কাছে বারবার আবেদন করেও কোনও সাড়া পাননি নদিয়ার শিক্ষিকা নাহিদা সুলতানা। শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়ে মিলল সুবিচার। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য (Justice Sougata Bhattacharya) নির্দেশ দিয়েছেন, নাহিদা সুলতানাকে ফের আপার প্রাইমারি স্কুলে নিয়োগ করতে হবে এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনকে তাঁর কাজে যোগদানের সময়সীমা বাড়িয়ে দিতে হবে।
নাহিদা সুলতানা আগে নদিয়ার ঝুরুলী আদর্শ বিদ্যাপীঠে নবম-দশম শ্রেণিতে শিক্ষকতা করতেন। পরে আপার প্রাইমারিতে (পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি) মেধা তালিকায় নাম ওঠে তাঁর। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এসএসসি থেকে নিয়োগপত্রও পান। কিন্তু নিয়ম ছিল, অনুমোদনের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন স্কুলে যোগদান করতে হবে।
নাহিদা তখন দক্ষিণ দিনাজপুরের লাঙ্গুলি ২ বানেশ্বরী জুনিয়র হাইস্কুলে নবম-দশম শ্রেণিতে কর্মরত ছিলেন। সেই চাকরি ছাড়তে না পারায় নির্ধারিত সময়ে আপার প্রাইমারিতে যোগ দিতে পারেননি। এরপর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নবম-দশম শ্রেণির চাকরি চলে যায়। তখনই নাহিদা এসএসসির কাছে আবেদন করেন, তাঁর কাজে যোগদানের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য।
নাহিদার আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী আদালতে বলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে এসএসসি নিজে থেকেই সময়সীমা বাড়ানোর ক্ষমতা রাখে। নাহিদা নিয়ম মেনে আবেদন করেছিলেন, তবুও এসএসসি সেটি বিবেচনা করেনি। বরং কমিশনের সিদ্ধান্তে তাঁর পুরনো চাকরিও চলে গিয়েছে।
অন্যদিকে এসএসসির পক্ষে আইনজীবী ডঃ সুতনু পাত্র জানান, নাহিদা নিজেই ইচ্ছাকৃতভাবে কাজে যোগ দেননি। তাই তাঁর অনুমোদন বাতিল হয়েছে। সময়সীমা বাড়ানো এসএসসির এক্তিয়ার হলেও, এই ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই।
সবপক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, “যে কোনও পরিস্থিতিতে বিষয়টিকে মানবিকভাবে দেখা উচিত ছিল। একটি চাকরি হারানো মানে পুরো পরিবারের আর্থিক বিপর্যয়।” আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, এসএসসি সাত দিনের মধ্যে নাহিদার নিয়োগের সময়সীমা বাড়িয়ে দেবে এবং সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁকে নিয়োগপত্র তুলে দেবে।