বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিশদ রিপোর্ট চাইল আদালত। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে (Manoj Pant) দিল্লির মুখ্যসচিবের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে গোটা ঘটনার হালহকিকত জানতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অমিত শাহ ও কলকাতা হাইকোর্ট
শেষ আপডেট: 11 July 2025 12:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি থেকে আটক করা বাংলার ছয় পরিযায়ী শ্রমিককে (Migrant Worker) বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে রীতিমতো উদ্বিগ্ন কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিশদ রিপোর্ট চাইল আদালত। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে (Manoj Pant) দিল্লির মুখ্যসচিবের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে গোটা ঘটনার হালহকিকত জানতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী বুধবার মামলার পরবর্তী শুনানির দিন।
বীরভূমের পাইকরের বাসিন্দা ছয় পরিযায়ী শ্রমিকের খোঁজ না মেলায় তাঁদের পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। অভিযোগ, কাজের খোঁজে দিল্লি গিয়ে তাঁরা আটক হন। পরে তাঁদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে সন্দেহ করে বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে 'পুশ ব্যাক' করা হয়েছে।
ছ’জনকে গত ১৮ জুন দিল্লির রোহিনী এলাকার কেএন কাটজু থানার পুলিশ আটক করেছিল বলে জানায় পরিবার। পরে থানা কর্তৃপক্ষই জানায়, তাদের বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকে সরাসরি বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোথা থেকে তাঁদের পুশ ব্যাক করানো হয়েছে— এই সংক্রান্ত কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।
এই অভিযোগ সামনে আসতেই সরব হন রাজ্যসভার সাংসদ ও পশ্চিমবঙ্গ শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান সামিরুল ইসলাম। জানান, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা হাইকোর্টে মামলা করবেন এবং প্রয়োজন হলে আইনি লড়াই চলবে। এদিন আদালতের নির্দেশের পরে তাঁর বক্তব্য, “বাংলার গরিব শ্রমিকদের বিরুদ্ধে অন্যায় করা হচ্ছে। যারা সারাদিন দেশভক্তির বুলি ঝাড়েন, তাঁরা এখন চুপ। এটা কি নিছক প্রশাসনিক গাফিলতি, না কি বড় কোনও চক্রান্ত?”
এর আগে ওড়িশায় পরিযায়ী শ্রমিক আটক নিয়ে একটি পৃথক মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছিল, ওড়িশার মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে হবে কেন আটক করা হয়েছে, কোন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে, কোথায় রাখা হয়েছে শ্রমিকদের। এদিন আদালত সেই প্রসঙ্গ তুলে জানতে চায়— দিল্লির মামলাটির মধ্যে পার্থক্য কোথায়? কারণ এখানে অভিযোগ আরও গুরুতর, বলা হচ্ছে তাঁদের অন্য দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে সরাসরি বিশদ রিপোর্ট তলব করেছে। কেন্দ্রের আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদীকে আদালতে সেই রিপোর্ট পেশ করতে হবে।