দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও কমিশনের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়নি। বিষয়টি সামনে এনে রিপোর্ট প্রকাশের দাবিতে আদালতে মামলাও হয়েছিল। সেই মামলার শুনানিতেই এবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল আদালত।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 10 March 2026 18:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারদা কেলেঙ্কারির (Sarada Scam Case) তদন্তে রাজ্যের গঠিত বিচারপতি শ্যামল সেন কমিশনের রিপোর্ট (Shyamal Sen Commission Report) প্রকাশের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। প্রায় ১২ বছর পর সেই কমিশনের আর্থিক হিসেব, পর্যবেক্ষণ এবং সুপারিশ সামনে আসতে চলেছে। আদালতের এই নির্দেশের ফলে দীর্ঘদিন ধরে গোপন থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথি এবার মামলার সব পক্ষের হাতে পৌঁছবে।
সারদা কেলেঙ্কারির (Sarada Scam Case) পর আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় রাজ্য সরকার বিচারপতি শ্যামল সেনের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করেছিল। রাজ্যের ঘোষিত ৫০০ কোটির তহবিল থেকে সেই কমিশন প্রায় ২২৫ কোটি টাকা আমানতকারীদের মধ্যে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করে। পরে কমিশনের কাজ শেষ হলে অবশিষ্ট অর্থ এবং সমস্ত হিসেবনিকেশ রাজ্য সরকারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ওই নথির একটি প্রতিলিপি আদালতের কাছেও জমা পড়ে।
কিন্তু তারপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও কমিশনের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়নি। বিষয়টি সামনে এনে রিপোর্ট প্রকাশের দাবিতে আদালতে মামলাও হয়েছিল। সেই মামলার শুনানিতেই এবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল আদালত।
বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের নেতৃত্বে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, আদালতের কাছে থাকা কমিশনের রিপোর্ট মামলার সব পক্ষকে সরবরাহ করতে হবে। আমানতকারীদের আইনজীবীদের মতে, এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলে সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে কমিশনের পর্যবেক্ষণ, সুপারিশ এবং বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে। ফলে ভবিষ্যতে এই মামলার অগ্রগতিতেও নতুন দিক খুলতে পারে।
শুনানির সময় আদালত চিটফান্ড সংক্রান্ত মামলাগুলিতে তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। আদালত লক্ষ্য করেছে, বহু ক্ষেত্রে এই ধরনের মামলায় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবীরা উপস্থিত থাকছেন না। বিষয়টি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি ভরদ্বাজ।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, চিটফান্ড সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থার আর্থিক লেনদেন এবং তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ নথি মূলত কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলির কাছেই রয়েছে। অথচ আদালতের নজরে এসেছে, অধিকাংশ মামলায় এই সংস্থাগুলির প্রতিনিধিরা হাজির থাকছেন না।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের এক আইনজীবীকে আদালত সতর্ক করে জানায়, বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের আইন আধিকারিককে জানাতে হবে। ভবিষ্যতে যদি একই পরিস্থিতি চলতে থাকে, তবে আদালত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ফলে সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের মধ্যে এই নির্দেশ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলে মামলার বিভিন্ন অজানা দিক সামনে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।