রাজ্য সরকার এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে যায়। তবে বুধবার ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ বহাল রাখায় মামলায় বড় ধাক্কা খেল রাজ্য।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 August 2025 14:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেদিনীপুর কলেজের (Medinipur College) দুই ছাত্রীর উপর নির্যাতনের অভিযোগে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি দেবাংশু বসাকের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, আগের মতোই বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) তদন্ত চালাবে। এই সিটের নেতৃত্বে থাকবেন আইপিএস মুরলী ধর।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে - এক ছাত্রীকে চুল ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন পুলিশকর্মী কুহেলি সাহা। তাঁর বিরুদ্ধে আলাদা করে তদন্তের নির্দেশও দিয়েছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, মামলার বিচার চলবে মেদিনীপুর মানবাধিকার আদালতে। ক্ষতিপূরণ-সহ অন্যান্য দাবিদাওয়া নিয়ে পরবর্তী শুনানিতে সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।
প্রসঙ্গত, সিঙ্গল বেঞ্চের এই রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার ডিভিশন বেঞ্চে চ্যালেঞ্জ জানালেও তা খারিজ হয়েছে। অর্থাৎ, সিট তদন্তের নির্দেশই বহাল থাকল।
ঘটনার সূত্রপাত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূলপন্থী শিক্ষকদের সংগঠনের সম্মেলন ঘিরে ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, সেই বিক্ষোভের সময় শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন এক ছাত্র। প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দেয় এসএফআই। সেই ধর্মঘটের সমর্থনে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে উপস্থিত কয়েক প্রাক্তন ছাত্রকে মেদিনীপুর মহিলা থানার পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। ওই ছাত্ররা ছিলেন এসইউসিআই-ঘনিষ্ঠ ডিএসও-র সদস্য।
অভিযোগ আরও গুরুতর। থানায় নিয়ে গিয়ে মহিলা থানার ওসি সাথী বারিক তাঁদের জ্বলন্ত মোমবাতি দিয়ে ছেঁকা দেন এবং হুমকি দেন বলে জানিয়েছে পড়ুয়ারা। বিষয়টি আদালতের নজরে আনতেই বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ প্রথমে আইপিএস মুরলী ধরকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তাঁর রিপোর্টে নির্যাতনের প্রমাণ মেলায় সিট গঠনের নির্দেশ জারি হয়েছিল।