২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নিয়ে বড় পদক্ষেপ কলকাতা হাইকোর্টের। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল গঠন করলেন ৩ বিচারপতির উচ্চপর্যায়ের কমিটি। টি.এস. শিবজ্ঞানমসহ তিন অভিজ্ঞ বিচারপতি রয়েছেন এই কমিটিতে।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 7 April 2026 20:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েন চলেছে বাংলায়। কখনও অভিযোগ উঠছে গণহারে নাম বাদ দেওয়ার, তো কখনও নাম তোলা নিয়ে দেখা দিয়েছে বিতর্ক (Supreme Court SIR Hearing)। এই 'পরিস্থিতি' সামলাতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার সক্রিয় ভূমিকা নিল আদালত। সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনে সোমবার তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করল কলকাতা হাইকোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই বিষয়ে আগেই নির্দেশ জারি করেছিল। সেই নির্দেশ মেনেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এই কমিটি গঠন করেছেন। মূলত ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়া বা নতুন নাম তোলা সংক্রান্ত অভিযোগগুলির নিষ্পত্তিতে যে ট্রাইব্যুনালগুলো কাজ করছে, তাদের কাজের পদ্ধতি নির্ধারণ করবে এই কমিটি। পাশাপাশি, তাদের উপর নজরদারিও চালাবে এই কমিটি।
হাইকোর্ট সূত্রে খবর, এই বিশেষ কমিটিতে থাকছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বিচারপতি টি.এস. শিবজ্ঞানম, বিচারপতি প্রদীপ্ত রায় এবং বিচারপতি প্রণব কুমার দেব।
সোমবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। সোমবারের শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালের (SIR Tribunal) ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। সোমবার, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই কমিটিতে তিনজন প্রাক্তন সিনিয়র প্রধান বিচারপতি বা বিচারপতিকে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়। আদালতের মতে, এই কমিটিই ট্রাইব্যুনালগুলির জন্য একটি অভিন্ন পদ্ধতি নির্ধারণ করবে। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি আরও জানান, বিচারকদের দেওয়া কারণ-সহ সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে ট্রাইব্যুনালগুলি নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তবে সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি একটাই হবে, যা নির্ধারণ করবে এই কমিটি।
স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের কমিটি যে নির্দেশিকা তৈরি করবে, তা ১৯টি ট্রাইব্যুনালের জন্য বাধ্যতামূলক হবে। অফলাইনে আপিল জমা পড়লে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের দফতর থেকে রসিদ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকে। এই মামলার গত শুনানিতেই অবশ্য সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, কেউ যদি এই নির্বাচনে ভোট দিতে না পারেন, তার অর্থ এই নয় যে তাঁর ভোটাধিকার স্থায়ীভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এরপরেই, মঙ্গলবার দ্রুত এই কমিটি গঠন করেছে কোলকাতা হাই কোর্ট।