রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে আগেই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছিল আদালত। শুক্রবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সেই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধি করল রাজ্যের উচ্চ আদালত।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 19 September 2025 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি চাকরিহারাদের (Jobless) ভাতা মামলায় (Allowance Case) বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে আগেই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছিল আদালত। শুক্রবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে সেই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধি করল রাজ্যের উচ্চ আদালত। বিচারপতি অমৃতা সিনহার (Justice Amrita Sinha) নির্দেশ, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত ভাতা দেওয়া যাবে না।
রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যারা গ্রুপ সি-তে কর্মরত ছিলেন তাদের ২৫ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে এবং যারা গ্রুপ ডি-র কর্মী ছিলেন তারা ২০ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই এর বিরোধিতায় মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহারই এজলাসে। সেই সময়ই আদালত স্পষ্ট করেছিল, কোনও ভাবেই এই ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। আর এই সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করা হয়।
এই মামলায় প্রথমেই কলকাতা হাইকোর্ট প্রশ্ন তুলেছিল, যাদের ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার তারা কীসের ভিত্তিতে এই টাকা পাবেন এবং ২৫ হাজার বা ২০ হাজার টাকার অঙ্কটাও কী ভিত্তি নির্ধারিত হল। সরকার ঠিক কী ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা জানতে চায় রাজ্যের উচ্চ আদালত। বিশেষত, যাদের আর্জি সুপ্রিম কোর্টও গ্রহণ করেনি তাদের কেউ কেন ঘরে বসে টাকা পাবে তাও রাজ্য সরকারের থেকে, এই নিয়েই আপত্তি ছিল কলকাতা হাইকোর্টের।
২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেলে থাকা প্রায় ২৬ হাজার জনের চাকরি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এই ২৬ হাজার জনের মধ্যে রয়েছেন গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীরাও। তাঁদের জন্যই গত মে মাসে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার। এসএসসি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভে নেমেছিলেন চাকরিহারারা। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি কারণ শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনেই আবারও পরীক্ষায় বসতে হয়েছে তাঁদেরকে।
চলতি মাসেই ৭ এবং ১৪ তারিখ এসএসসি-র পরীক্ষা হয়েছে। তবে সেই নিয়েও বিতর্কের শেষ নেই। নতুন চাকরিপ্রার্থীরা বলেন - দশ বছর পর নিয়োগের পরীক্ষা হয়েছে অথচ নতুন প্রার্থীদের পূর্ণ নম্বর পেলেও ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, ইন-সার্ভিস প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার শিক্ষককে ইতিমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তাঁদের দাবি, শূন্যপদের সংখ্যা বাড়িয়ে অন্তত এক লক্ষ করা হোক। আর ইন-সার্ভিস প্রার্থীদের যে অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়া হচ্ছে, তার কোনও সরকারি গেজেটে উল্লেখ নেই। এই অতিরিক্ত সুবিধা বন্ধ করতে হবে।