দ্য ওয়াল ব্যুরো : ব্যাঙ্কগুলির (Bank) অনাদায়ী ঋণ নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন জানান, ন্যাশনাল অ্যাসেট রিকনস্ট্রাকশন কোম্পানির ইস্যু করা সিকিউরিটি রিসিপ্টসের ওপরে সরকার গ্যারান্টি দেবে ৩০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
এর আগে গত জুন মাসে নির্মলা ঘোষণা করেন, কোভিডের ধাক্কা সামলাতে অর্থনীতিতে আটটি নতুন প্রকল্প রূপায়ন করা হবে। এক্ষেত্রে তিনি বাড়তি জোর দেন স্বাস্থ্যে ও পর্যটনে। কোভিডে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পগুলির জন্য মোট ১ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকার লোন গ্যারান্টি প্রকল্প ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এছাড়া দেড় লক্ষ কোটি টাকার এমার্জেন্সি ক্রেডিট লাইন গ্যারান্টি স্কিমও ঘোষণা করেছেন।
কোভিড অতিমহামারীকে একুশ শতকের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সংকট বলে ধরা হচ্ছে। কোভিডের মোকাবিলার জন্য জনস্বাস্থ্য খাতে ২৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন নির্মলা। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অতিমহামারীতে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাভেল এজেন্সিগুলিকে ঋণ দেওয়া হবে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। ট্যুরিস্ট গাইডদের ঋণ দেওয়া হবে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
এমার্জেন্সি ক্রেডিট গ্যারান্টি প্রকল্পে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলি কো-ল্যাটারাল ফ্রি ঋণ পাবে। যাঁরা অল্প পরিমাণ অর্থ ঋণ নেবেন, তাঁদের থেকে সুদ নেওয়া হবে খুব কম হারে।
অতিমহামারী শুরু হওয়ার পর থেকেই সরকার দফায় দফায় আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করে। গত বছর মে মাসে ঘোষণা করা হয় 'আত্মনির্ভর ভারত' প্যাকেজ। ওই প্যাকেজে ২১ লক্ষ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্পে বরাদ্দ টাকার পরিমাণ দেশের জিডিপির ১০ শতাংশের সমান।
এর আগে জুনের মাঝামাঝি ২০২১ সালের মান্থলি বুলেটিন প্রকাশ করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তাতে বলা হয়, কোভিডের সেকেন্ড ওয়েভের জন্য দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হতে পারে ২ লক্ষ কোটি টাকা। কারণ অতিমহামারীর ফলে দেশের অভ্যন্তরে কমেছে চাহিদা। এরই মধ্যে আশার কথা হল, কৃষিতে উৎপাদন বাড়ছে। যে ধরনের পরিষেবাগুলিতে কোনও ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার প্রয়োজন হয় না, সেগুলিরও চাহিদা বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় এবছর শিল্পোৎপাদন এবং রফতানিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
মে মাসের শেষে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানায়, কোভিড অতিমহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ আসায় দেশের অর্থনীতিতে একপ্রকার অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে স্বল্পমেয়াদে অর্থনীতির বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। বেসরকারি ক্ষেত্রে চাহিদা বাড়লে তবেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।