৭ মাস পরে গুলমার্গের বরফ গলে উদ্ধার সেনার দেহ! শীতে টহল দেওয়ার সময়ে খাদে তলিয়ে যান তিনি
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীরের গুলমার্গে নিয়মমাফিক টহলদারি চালাচ্ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১১ গাড়োয়াল রাইফেলসের হাবিলদার, ৩৫ বছরের রাজেন্দ্র সিং নেগি। জানুয়ারি মাসে গুলমার্গ তখন চাপা পড়ে আছে পুরু বরফের চাদরে। তার মধ্যেই কর্তব্যে ফাঁকি ছিল না ত
শেষ আপডেট: 17 August 2020 10:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীরের গুলমার্গে নিয়মমাফিক টহলদারি চালাচ্ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১১ গাড়োয়াল রাইফেলসের হাবিলদার, ৩৫ বছরের রাজেন্দ্র সিং নেগি। জানুয়ারি মাসে গুলমার্গ তখন চাপা পড়ে আছে পুরু বরফের চাদরে। তার মধ্যেই কর্তব্যে ফাঁকি ছিল না তরুণ সেনা জওয়ানের। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। খোঁজাখুঁজির পরে সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়, পা পিছলে বরফের অতল খাদে তলিয়ে গেছেন তিনি। অবশেষে, এই সাত মাস পরে উদ্ধার হল তাঁর দেহ!
৮ জানুয়ারি রাজেন্দ্র সিং নেগি নিখোঁজ হওয়ার পরে দফায় দফায় উদ্ধার অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। কিন্তু এতগুলো দিন ধরে তাঁর কোনও হদিস মেলেনি। জুন মাসে শেষমেশ রাজেন্দ্রর পরিবারকে জানিয়ে দেওয়া হয়, মারা গিয়েছেন তিনি। দেহ মেলেনি বরফের নীচ থেকে। স্বামীর মৃত্যুর খবর অবশ্য মেনে নিতে পারেননি রাজেন্দ্রর স্ত্রী রাজ্যেশ্বরী দেবী। তিনি জানান, স্বামীর মৃতদেহ না দেখা পর্যন্ত মৃত্যুর খবর মানতে পারবেন না।

শেষ পর্যন্ত বরফের নীচ থেকেই পাওয়া গেল তাঁর মরদেহ। মনে করা হচ্ছে, গভীর খাদে পুরু বরফের নীচে চাপা পড়ে যাওয়ার কারণেই খুঁজে পাওয়া যায়নি তাঁকে এতদিন। শনিবার গুলমার্গে টহলদারির সময়ে হঠাৎই একটি লাশ দেখতে পান সেনাবাহিনীর সদস্যরাই। এর পরেই বরফ কেটে উদ্ধার করা হয় লাশটিকে। তার পরে রাজেন্দ্রর সহকর্মীরাই দেহটি চিহ্নিত করেন। এত দিন বরফে চাপা থাকায় এতটুকু বিকৃত হয়নি দেহ।
গতকাল, রবিবার উদ্ধারের পরে তাঁর স্ত্রী রাজ্যেশ্বরী দেবীকে জানানো হয় রাজেন্দ্রর দেহ। এর পরে শ্রীনগরের সেনা হাসপাতালে দেহটি পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য। দুয়েক দিনেই মৃত জওয়ানের দেহ দেরাদুনে তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
জানুয়ারি মাসের শীতে যে পুরু বরফ জমে, গলতে শুরু করে বর্ষার আগে থেকে। এ ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে, গুলমার্গের বরফ গলেছে। তার ফলেই দেহটি দেখা গিয়েছে বরফ সরে। শনিবার গোটা দেশ যখন স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হচ্ছে, তখনই সেনার তরফে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধারের কথা জানানো হয়।