মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ প্রতিদিনের মতোই নিজের চেম্বার খুলেছিলেন রাজা ভৌমিক। সব কিছু তখন স্বাভাবিকই ছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, কিছু ক্ষণ পরেই চেম্বারে ঢোকেন জীবন রুইদাস।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 February 2026 16:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চেম্বারের মধ্যেই নৃশংসভাবে খুন হলেন এক হাতুড়ে চিকিৎসক (Doctor Death)। খুনের পর আর পালিয়ে না গিয়ে, সটান থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করল অভিযুক্ত। এই হাড়হিম করা ঘটনাকে ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে বর্ধমান (Bardhaman Murder Case) শহরের বাদামতলা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত চিকিৎসকের নাম রাজা ভৌমিক (Raja Bhowmik) (৪৫)। তাঁর বাড়ি বর্ধমান শহরের বাবুরবাগ এলাকায়। দীর্ঘ দিন ধরেই তিনি বাদামতলায় একটি চেম্বার চালাতেন। খুনের অভিযোগে পুলিশ আটক করেছে জীবন রুইদাস নামে এক যুবককে। ধৃতের বাড়ি শক্তিগড় থানার (Shaktigarh PS) অন্তর্গত আমড়া গ্রামে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ প্রতিদিনের মতোই নিজের চেম্বার খুলেছিলেন রাজা ভৌমিক। সব কিছু তখন স্বাভাবিকই ছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, কিছু ক্ষণ পরেই চেম্বারে ঢোকেন জীবন রুইদাস। তাঁর সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগে ছিল ধারালো একটি কাটারি। অভিযোগ, চেম্বারে ঢুকেই কোনও কথা না বলে অতর্কিতে রাজা ভৌমিকের উপর হামলা চালান জীবন। একের পর এক কোপ পড়ে চিকিৎসকের মাথায়। রক্তাক্ত অবস্থায় চেম্বারের মধ্যেই লুটিয়ে পড়েন রাজা ভৌমিক।
ঘটনার পর যা ঘটে, তাতে আরও চমকে ওঠে পুলিশ। খুনের পর অভিযুক্ত এলাকা ছেড়ে পালায়নি। বরং সোজা হাজির হয় বর্ধমান থানায়। পুলিশের দাবি, থানায় ঢুকেই জীবন জানায় যে সে একজন ডাক্তারকে খুন করে এসেছে। সেই কথা শুনে পুলিশ তাকে সঙ্গে নিয়ে যায় বাদামতলার ওই চেম্বারে। সেখানে গিয়ে রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। দেহ উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অথচ এত বড় ঘটনার আঁচ পাননি স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, বাদামতলার ওই চেম্বারে যে এমন ভয়াবহ কাণ্ড ঘটে গিয়েছে, তা পুলিশ না এলে কেউই জানতে পারতেন না। পুলিশ পৌঁছনোর পরই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত জীবন রুইদাসের ঠাকুমা প্রায় এক মাস আগে মারা যান। জীবনের ধারণা ছিল, রাজা ভৌমিকের কাছে চিকিৎসা করানোর ফলেই তাঁর ঠাকুমার মৃত্যু হয়েছে। সেই ক্ষোভ এবং প্রতিশোধের মনোভাব থেকেই জীবন এই খুন করেছে বলে পুলিশের অনুমান। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার আগে থেকেই ব্যাগে করে কাটারি নিয়ে সে চেম্বারে গিয়েছিল।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, রাজা ভৌমিক প্রায় দু’বছর ধরে বাদামতলা এলাকায় হাতুড়ে চিকিৎসক হিসেবে চেম্বার চালাচ্ছিলেন। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের পিছনের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।