দ্য ওয়াল ব্যুরো : কুমারস্বামী সরকার পড়ে গিয়েছে গত মঙ্গলবার। শুক্রবার কর্ণাটকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন বিজেপি নেতা বি এস ইয়েদুরাপ্পা। আগামী ৩১ জুলাই তিনি বিধানসভায় গরিষ্ঠতার প্রমাণ দেবেন। বিজেপির পক্ষে এখনও পর্যন্ত আছেন ১০৬ জন বিধায়ক। গরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য তাঁকে আরও ছ'জন বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করতে হবে। ইয়েদুরাপ্পা নিজে জানিয়েছেন, গরিষ্ঠতা প্রমাণের ব্যাপারে তিনি ১০১ শতাংশ নিশ্চিত।
১৪ মাসের কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকার পড়ে যাওয়ার পরে কর্ণাটকের বিজেপি নেতারা দিল্লিতে গিয়েছিলেন। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের সঙ্গে তাঁরা বৈঠকে বসেন। কর্ণাটকের নেতারা তাঁকে আশ্বাস দেন, কংগ্রেস-জেডিএস জোটের যে বিধায়করা বিদ্রোহ করেছিলেন, তাঁরা বিজেপিকে সমর্থন করবেন। তখনই অমিত শাহ নির্দেশ দেন, আপনারা সরকার গঠনের দাবি জানান।
এই নিয়ে চারবার কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী হলেন ইয়েদুরাপ্পা। তিনি এদিন শপথ নেওয়ার সময় সাদা শার্টের ওপরে সিল্কের সবুজ রং-এর চাদর জড়িয়েছিলেন। কংগ্রেস শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বয়কট করে। তাদের বক্তব্য, ওই অনুষ্ঠান 'অপবিত্র'। অন্যদিকে ইয়েদুরাপ্পা শপথ নেওয়ার পর বলেন, জোট সরকারের সঙ্গে বিজেপি সরকারের তফাৎ হল, আমরা উন্নয়নে বিশ্বাসী। ক্ষমা করাই আমাদের ধর্ম।
এর আগে যে তিনবার ইয়েদুরাপ্পা মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, কোনওবার পুরো মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে তাঁর সরকার টিকেছিল এক সপ্তাহ। দ্বিতীয়বার টিকেছিল তিন বছর। তৃতীয়বার টিকেছিল ৪৮ ঘণ্টা।
এদিন সকালে ইয়েদুরাপ্পা রাজ্যপাল বাজুভাই বালার সঙ্গে দেখা করেন। তাঁর কাছে সরকার গঠনের দাবি জানান। একটি সূত্রে খবর, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা চাইছিলেন, গরিষ্ঠতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে সরকার গঠনের দাবি জানানো হবে। তাঁরা আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাড়াতাড়ি শপথ নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন ইয়েদুরাপ্পা।
গতবছর মে মাসে কর্ণাটকে বিধানসভা ভোট হয়। কোনও পক্ষই গরিষ্ঠতা পায়নি। ইয়েদুরাপ্পা প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েও দু'দিন বাদে ইস্তফা দেন। কারণ সরকার চালানোর মতো গরিষ্ঠতা তাঁর ছিল না। কংগ্রেস ও কুমারস্বামীর জনতা দল সেকুলার জোট বেঁধে সরকার গড়ার দাবি জানায়।