রেশমার অভিযোগ, “আমার গর্ভস্থ সন্তানকে আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে ওষুধ খাইয়ে মেরে ফেলা হয়। পরে সেই মৃত ভ্রূণকে পুঁতে দেওয়া হয় মাটিতে।”

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 17 October 2025 20:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় গর্ভের সন্তান খুন (Brutality for money)! ১৮ মাস পর সেই মৃত ভ্রূণের হাড়গোড় মাটি খুঁড়ে তুলল পুলিশ। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের ভেটকিয়া গ্রামে।
অভিযোগ, পণের দাবিতে অত্যাচার করে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর (Pregnant Wife) গর্ভে থাকা শিশুকে হত্যা করেন স্বামী। তারপর মৃত ভ্রূণ পুঁতে দেওয়া হয় মাটির নিচে। প্রায় দেড় বছর পর আদালতের নির্দেশে শুক্রবার মাটি খুঁড়ে অবশেষে সেই ভ্রুণ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভেটকিয়ার রেশমা খাতুনের সঙ্গে এলাকারই জামিরুল গাজির বিয়ে হয়েছিল। বিয়েতে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা পণ নেওয়ার অভিযোগ আছে জামিরুলের বিরুদ্ধে। বিয়ের পর এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন রেশমা। কিছু বছর পর স্বামী আবার শ্বশুরবাড়ির কাছে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করেন চাকরির নামে।
অভিযোগ, অভাবের সংসারে সেই টাকা জোগাড়ে দেরি হওয়ায় রেশমার উপর শুরু হয় নিত্য অত্যাচার। পরে রেশমার বাবা কোনওভাবে ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা দেন জামিরুলকে। কিন্তু বাকি টাকা না মেলায়, অভিযোগ, তখনই নৃশংসতা বাড়ে। সেই সময় রেশমা ছিলেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
রেশমার অভিযোগ, “আমার গর্ভস্থ সন্তানকে আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে ওষুধ খাইয়ে মেরে ফেলা হয়। পরে সেই মৃত ভ্রূণকে পুঁতে দেওয়া হয় মাটিতে।”
এরপরই রেশমাকে মারধর করে রাস্তার ধারে ফেলে রেখে যায় জামিরুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় মানুষ তাঁকে উদ্ধার করে বাপেরবাড়িতে পৌঁছে দেন। সেখান থেকেই থানায় গিয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে সন্তানহত্যা, গর্ভপাত করানো ও পণ-অত্যাচারের অভিযোগ দায়ের করেন রেশমা।
হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই জামিরুল গাজিকে গ্রেফতার করেছে। আদালতের নির্দেশে তাঁকে ছ’দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। সেই জেরাতেই উঠে আসে ভ্রূণ পুঁতে রাখার ঘটনাটি। শুক্রবার আদালতের নির্দেশে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার হয় মৃত ভ্রূণের হাড়গোড়।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামিরুল। তাঁর দাবি, “স্ত্রীকে কখনও মারিনি। উল্টে ওর অন্য সম্পর্কে জড়িত থাকা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল।”
তদন্তে নেমেছে হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য উদ্ধার হওয়া হাড়গোড় পাঠানো হয়েছে কলকাতায়। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে শিশুর মৃত্যুর প্রকৃতি ও সময় স্পষ্ট হবে। আপাতত সন্তানহত্যার ধারায় তদন্ত এগোচ্ছে।”