
শেষ আপডেট: 17 May 2023 11:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাবা হতে চান? একেবারে হাতেগরম অফার। হ্যাঁ বললেই মিলবে কড়কড়ে ১০ হাজার পাউন্ড!
একেবারে খাস লন্ডন শহরের ঘটনা। বিবিসির এক তদন্তে দেখা গিয়েছে, ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যে, বিশেষত ইংল্যান্ডে ব্রেক্সিট (Brexit) এবং টোরি সরকারের অভিবাসন (British immigration) নিয়ে বাড়াবাড়ির জেরে এবার নাগরিকত্ব পাওয়ার নতুন রাস্তা নিয়েছেন অভিবাসীরা। মাত্র হাজার দশেক পাউন্ড ফেললেই পাওয়া যাবে সুপাত্র। অর্থাৎ, কোনও ব্রিটিশ নাগরিক, যার নাম বসে যাবে অভিবাসীর সন্তানের জন্ম শংসাপত্রে। ফলে, আইনসম্মতভাবে তার স্ত্রী হওয়ার সুবাদে নাগরিকত্ব পাওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে যাবেন বহিরাগত মহিলা।

কার্যত মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতই কেলেঙ্কারি। শার্লক হোমস থাকলে হয়ত এই নিয়েই গভীরভাবে ভাবতে বসতেন, ওয়াটসনকেও বলতেন, কী করা যায় বলো দিকি! তবে উপায়টা একেবারে আনকোরা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই মেক্সিকো-আমেরিকা বর্ডারে এই জাতের শৈল্পিক উপায়ে ভিসা থেকে গ্রিন কার্ড সবই আদায়ের সুবন্দোবস্ত আছে। ডলার ফেললেই সৎপাত্র মিলবে, তারপর দিনকয়েকের জন্য বিবাহ করতে হবে। ব্যাস, তাতেই কাজ হাসিল। হৃতিক রোশন অভিনীত 'কাইটস' ছবিতে এই প্রকল্পের বিশদ বিবরণ মিলবে।
বিবিসির এক প্রতিনিধি রীতিমতো সন্তানসম্ভবা মহিলা সেজে কথা বলেছেন বিভিন্ন 'এজেন্ট'-দের সঙ্গে। দেখা যাচ্ছে, সেই 'এজেন্ট' রীতিমতো আশ্বস্ত করছেন, 'কোনও চিন্তা নেই, কাজ হয়ে যাবে'। তিনি সেই প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপ করালেন 'অ্যান্ড্রু' নামের জনৈক যুবকের। তিনি 'বাবা' সাজার কাজ করেন। ব্রিটিশ নাগরিক। দক্ষিণা পড়বে ১১ হাজার ডলার। প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটাই 'অতি সহজে' হয়ে যাবে বলে আশ্বাস দিলেন এজেন্ট।

গত কয়েক বছর ধরেই ব্রিটেনে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কড়া হবার প্রতিযোগিতা চলছে। টেরেসা মে তাও রেখেঢেকে বলতেন, কিন্তু বরিস জনসন ও তাঁর পরবর্তী ঋষি সুনক, তাঁর মন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল থেকে সুয়েলা ব্রেভারম্যান সকলেই একে একে এসে ইংরেজদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাদের অভিবাসী হামলা থেকে সুরক্ষিত রেখেই ছাড়বেন। এই ব্যাপারে আফ্রিকার রোয়ান্ডার সঙ্গে নানা চুক্তিও হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে মানবাধিকার সংগঠন সকলেই একবাক্যে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু রক্ষণশীল দলের নেতারা এই রাস্তা ছাড়বেন না।
এদিকে ব্রিটিশ আইন বলে, কোনও মহিলা যদি বেআইনিভাবে বিলেতে প্রবেশ করেন এবং কোনও ব্রিটিশ নাগরিকের সঙ্গে সন্তানের জন্ম দেন, তাহলে সেই সন্তান ব্রিটেনের নাগরিকত্ব পাবে। সেই সূত্র ধরে মা 'পরিবার ভিসা'-র জন্য আবেদন করতে পারেন। যার ফলে তিনি ব্রিটেনে থাকতে পারবেন এবং সময় হলে নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করতে পারবেন। কার্যত এই আইনের জেরেই একের পর এক অভিবাসীরা সমাজমাধ্যমের দ্বারা বা এজেন্টের মাধ্যমে খোঁজ করছেন এরকম 'বাবা'দের। দরও লাফিয়ে বাড়ছে। আইনি জটিলতায় পড়ে যাচ্ছে প্রশাসন।

সমাজমাধ্যমে প্রায় অনামে-বেনামে পোস্ট ঘুরছে, 'আমি সন্তানসম্ভবা, চার মাসের। আমার খুব তাড়াতাড়ি একজন 'সিটিজেনশিপ ড্যাডি' লাগবে'। কেউ লিখছেন, 'আমি ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী বাবা। কেউ সন্তানসম্ভবা হলে এবং বাবা লাগলে আমায় যোগাযোগ করবেন'।
অপরাধ জগৎ এমনই সৃজনশীল যে, তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতার সামনে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড থেকে ওয়েস্টমিনস্টার সকলেই মোটামুটি খাবি খাচ্ছেন। নানারকম উপায়ে চলছে অভিবাসী আগমন। একেই বলে বজ্র আঁটুনি, ফস্কা গেরো।
‘কাকু, কার্টুন নেটওয়ার্ক আছে তো?’ ইঁদুর-বিড়ালের খুনসুটি, ছাগলের হাসি আর ‘হাবিজাবি’র তিন দশক