সূত্রের খবর শুক্রবার রাত দশটা নাগাদ টিউশন পড়ে বাড়ি ফিরছিল ওই স্কুলছাত্রী। সেই সময় শুভ মণ্ডল নামে ওই যুবক তাকে ডাকে। এরপরই রাস্তার উপরেই বচসায় জড়িয়ে যায় দুজন। অভিযোগ, এরপরেই মেয়েটিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে শুরু করে ওই যুবক।

শেষ আপডেট: 20 September 2025 12:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: কৃষ্ণনগরের পর এবার নদিয়ার তাহেরপুর। প্রেমের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছিল নাবালিকা। প্রতিশোধ নিতে রাস্তা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে তাকে খুনের অভিযোগে উঠল প্রেমিকের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে তাহেরপুর থানার শ্যামনগর এলাকায়।
সূত্রের খবর শুক্রবার রাত দশটা নাগাদ টিউশন পড়ে বাড়ি ফিরছিল ওই স্কুলছাত্রী। সেই সময় শুভ মণ্ডল নামে ওই যুবক তাকে ডাকে। এরপরই রাস্তার উপরেই বচসায় জড়িয়ে যায় দুজন। অভিযোগ, এরপরেই মেয়েটিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে শুরু করে ওই যুবক। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে মেয়েটি। ছুটে আসে আসেপাশের লোকজন। ততক্ষণে গা ঢাকা দিয়েছে ওই তরুণ। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি মেয়েটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ডাক্তাররা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদের তাহেরপুর থানার শ্যামনগর এলাকাতেই দুজনের বাড়ি। তাদের দুজনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি মেয়েটি এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসে। তার জেরেই হামলা চালায় ওই তরুণ। এই ঘটনা জানাজানি হতেই তুমুল শোরগোল পড়ে এলাকায়। মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে তাহেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই অভিযুক্ত ছেলেটিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সম্পর্ক ভেঙে বেরিয়ে আসায় গত ২৫ অগস্ট কৃষ্ণনগরে কলেজ ছাত্রী ঈশিতা মল্লিকের বাড়িতে ঢুকে তাঁকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করেছিল অভিযুক্ত দেশরাজ সিং। বেরিয়ে যাওয়ার সময় সামনে পড়ে গিয়েছিলেন ঈশিতার মা ও ভাই। তখন তাঁদের লক্ষ্য করেও গুলি চালায় অভিযুক্ত। কিন্ত গুলি না বেরোনোয় বেঁচে যান তারা। এই ভয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটিয়েই উত্তরপ্রদেশে গা ঢাকা দেওয়ার জন্য ট্রেনে ওঠে দেশরাজ। শেষরক্ষা হয়নি। উত্তরপ্রদেশের সীমান্ত এলাকায় লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাঁকে পাকড়াও করে রাজ্য পুলিশের বিশেষ টিম।
সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রেমের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসায় রাস্তার উপর ছাত্রীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল প্রেমিক শুভ মণ্ডলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২২ সালের এরকমই একটা চাঞ্চল্য়কর ঘটনাকে।
২০২২ সালের ২ মে সন্ধেবেলা বহরমপুরে মেসের সামনে সুতপা চৌধুরীকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছিল তার প্রেমিক সুশান্ত চৌধুরী। তদন্তে জানা গিয়েছিল, দু'জনের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। পরে সম্পর্কে অবনতি হয়। প্রেমে প্রত্যাখ্যান সহ্য করতে না পেরেই তরুণীকে খুন করেছিলেন সুশান্ত। এমনকি কেউ যাতে বাধা দিতে না পারে তারজন্য খেলনা বন্দুক দিয়ে সকলকে ভয়ও দেখিয়েছিল সে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে মিথ্যে বয়ান দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টাও করেছিল। একাধিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের আগস্টে সুশান্ত চৌধুরীকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল বহরমপুর আদালত। আদালত জানিয়েছিল, যেভাবে সুতপার শরীরে ৪২ বার আঘাত করা হয়েছে তা থেকে স্পষ্ট কতটা প্রতিশোধপরায়ণ ছিল সুশান্ত। ফাঁসির সাজা ঘোষণা করা হয়। পরে অবশ্য ফাঁসির সাজা রদ করে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী ৪০ বছরের আগে সুশান্তের সাজা কমানোর আবেদন জানানো যাবে না,স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় উচ্চ আদালত।