প্রতিদিন দুটি ক্যাম্প মিলিয়েই প্রায় তিন হাজার মানুষ চিকিৎসা নিতে আসছেন- এখনও পর্যন্ত মোট রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে প্রায় ২৫ হাজার।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 25 January 2026 16:56
নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় স্বাস্থ্যশিবিরে (Sebaashray camps in Nandigram) প্রতিদিনই কার্যত উপচে পড়া ভিড়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) উদ্যোগে ১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ মেডিক্যাল ক্যাম্প (Medical Camp) চলবে এমাসের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। দুই ব্লকে দু’টি আলাদা ক্যাম্প, দু’দিকেই রোগী দেখার চাপ আক্ষরিক অর্থেই চোখে পড়ার মতো। প্রতিদিন দুটি ক্যাম্প মিলিয়েই প্রায় তিন হাজার মানুষ চিকিৎসা নিতে আসছেন- এখনও পর্যন্ত মোট রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে প্রায় ২৫ হাজার।
রোজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিড়
প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকেই ডাক্তার দেখানো শুরু হয়। চলে সন্ধ্যা অবধি। ৩১ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও তাঁদের সঙ্গে থাকা একদল জুনিয়র ডাক্তার সারাদিন ধরে রোগীদের পরীক্ষা করছেন।
জেলার নানা এলাকা থেকে রোগীর ঢল
শুধু নন্দীগ্রাম বিধানসভা (Nandigram Assembly) নয়, হলদিয়া, খেজুরি, পটাশপুর, চণ্ডীপুর সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষও এই ক্যাম্পে ভিড় করছেন। রবিবার হওয়ায় সকালে ব্লক ১-এর ক্যাম্পে ভিড় সামলাতে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তবে বিপুল মানুষের উৎসাহতেই স্পষ্ট- এক ছাদের তলায় এত ধরনের স্পেশালিস্ট চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া বিরল সুযোগ।
কিডনি রোগে বিপর্যস্ত শুভাশিসের লড়াই
এই ভিড়ের মধ্যেই দেখা মিলল পটাশপুরের ৩৬ বছরের শুভাশিস শাসমলের। ২০২০ সালে ধরা পড়ে তাঁর দু’টি কিডনিই বিকল হয়ে গিয়েছে। আগে চাষের কাজ করতেন, কিন্তু শরীর খারাপের কারণে এখন পুরোপুরি বেকার। প্রতি মাসে কেবল ডায়ালিসিস করতেই খরচ হয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। শুভাশিস এসেছেন এই আশায় যে ক্যাম্পের সাহায্যে যেন তাঁর কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করানোর পথ খুলে যায়। তাঁর স্ত্রীই কিডনি দান করতে রাজি হয়েছেন।
ডায়মন্ড হারবার (Diamond Harbour) লোকসভা কেন্দ্রের গণ্ডি পেরিয়ে নন্দীগ্রামে পৌঁছেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'সেবাশ্রয়'। নন্দীগ্রাম রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্র। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেড় হাজারের কিছু বেশি ভোটে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু। সেই নন্দীগ্রামেই ‘সেবাশ্রয় প্রকল্প’ নিয়ে অভিষেকের পা রাখার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে আলাদা করে নজর কেড়েছিল।
ডায়মন্ড হারবারে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা, পরিষেবা ও সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছিলেন অভিষেক। সেই মডেলকে রাজ্যের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়ার বার্তা দিয়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। আর নন্দীগ্রাম দিয়ে শুরু মানে, রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে এক নতুন কৌশলগত চাল- এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
আগামী নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে আবার দাঁড়াবেন কী না, সেটা বলার সময় এখনও আসেনি। এমনকি শুভেন্দু অধিকারীকেও বিজেপি নন্দীগ্রামেই টিকিট দেবে কি না, সেটা বলারও সময় আসেনি। তবে এটা বলা যায় যে ২০২৬-এর নির্বাচনে যদি নন্দীগ্রামে পাশা পাল্টায় তাহলে অভিষেকের এই সেবাশ্রয় শিবিরের একটা বড় ভূমিকা সেখানে থাকবে। আর উল্টোটা হলে.....