কোচবিহার শহরের হাজরাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বিনয় দাস পেশায় রাজবাড়ির একজন আধিকারিক। কর্মব্যস্ত দৈনন্দিন জীবনের মাঝেও প্রকৃতিকে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্রত থেকে কখনও সরে যাননি তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর মন জিতলেন কোচবিহারের বিনয় দাস
শেষ আপডেট: 25 January 2026 16:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড় পরিবর্তনের জন্য যে সবসময় বিশাল সংগঠন বা আড়ম্বরপূর্ণ অভিযানের প্রয়োজন হয় না, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন কোচবিহারের বিনয় দাস (Binay Das Cooch Behar)। দীর্ঘদিনের নীরব, নিরলস পরিবেশ রক্ষার সেই কাজই এবার জাতীয় স্বীকৃতি পেল। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এ (Man ki Baat) উঠে এল কোচবিহারের এই কৃতি সন্তানের নাম। গত ১৫ বছর ধরে একক প্রচেষ্টায় অন্তত ১৩ হাজার চারাগাছ রোপণ এবং একাধিক ‘খণ্ডবন’ গড়ে তোলার জন্য দেশজুড়ে প্রশংসিত হল তাঁর উদ্যোগ।
কোচবিহার শহরের হাজরাপাড়া এলাকার বাসিন্দা বিনয় দাস পেশায় রাজবাড়ির একজন আধিকারিক। কর্মব্যস্ত দৈনন্দিন জীবনের মাঝেও প্রকৃতিকে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্রত থেকে কখনও সরে যাননি তিনি। সরকারি চাকরির ফাঁকে ফাঁকে রাস্তার ধারে, পরিত্যক্ত জমিতে কিংবা নদীর চরে গাছ লাগানোই হয়ে উঠেছে তাঁর নেশা ও দায়বদ্ধতা। বছরের পর বছর ধরে এই নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ফলেই আজ কোচবিহারের বহু এলাকায় চোখে পড়ছে সবুজের ছায়া, তৈরি হয়েছে ছোট ছোট বনভূমি।
রবিবার ‘মন কি বাত’-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিনয় দাসের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছোট ছোট ব্যক্তিগত উদ্যোগই কীভাবে পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা নিতে পারে, বিনয় দাস তার উজ্জ্বল উদাহরণ। সাধারণ মানুষের একার প্রচেষ্টাতেই যে প্রকৃতির চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব, তা তাঁর কাজ থেকে স্পষ্ট— এ কথাও উল্লেখ করেন মোদী।
প্রধানমন্ত্রীর মুখে নিজের নাম শুনে স্বভাবতই আপ্লুত বিনয় দাস। কোচবিহারজুড়ে বইতে শুরু করেছে খুশির হাওয়া। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেও গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে এই স্বীকৃতি। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বিনয়বাবু জানিয়েছেন, “এটা আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রী আমার মতো এক ক্ষুদ্র মানুষের কাজের কথা তুলে ধরেছেন, তা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। একা নয়, সকলের সহযোগিতা নিয়েই এই কাজ করে চলেছি।”
তবে জাতীয় স্বীকৃতিতেই থেমে থাকতে চান না তিনি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বিনয়বাবু জানান, তাঁর লক্ষ্য কোচবিহারের ৩২টি নদীর চরে পরিকল্পিতভাবে খণ্ডবন গড়ে তোলা। পরিবেশ রক্ষার এই লড়াই আরও বৃহত্তর পরিসরে নিয়ে যেতে চান তিনি। ছোট উদ্যোগ থেকে যে বড় পরিবর্তন সম্ভব, বিনয় দাসের পথচলাতেই তার প্রমাণ মিলছে।