মোদীর সফরের পর চলতি মাসেই বঙ্গে আসছেন অমিত শাহ। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির সংগঠন চাঙ্গা করতেই এই গুরুত্বপূর্ণ সফর বলে মনে করছে দল।
.jpeg.webp)
অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 22 January 2026 12:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবার বঙ্গ সফরে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। আগামী ৩০ জানুয়ারি কলকাতায় পা রাখার কথা তাঁর। তবে এবারের সফরে কোনও জনসভা বা প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকছে না বলে শোনা যাচ্ছে। বিজেপি (BJP) সূত্রে খবর, পুরো সফরটাই হবে সাংগঠনিক। মূল লক্ষ্য ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) সামনে রেখে দলের রণকৌশল চূড়ান্ত করা।
রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের মতে, এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বা মার্চের শুরুতেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে পারে। তার আগেই সংগঠনের ভিত শক্ত করা, দুর্বল জায়গাগুলি চিহ্নিত করা এবং নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো—এই সব বিষয়েই একাধিক বৈঠক করতে পারেন শাহ। কলকাতায় থাকাকালীন রাজ্য, জেলা ও মণ্ডল স্তরের নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik Examination)। সেই সময় রাজ্যজুড়ে মিটিং-মিছিল বন্ধ রাখার নিয়ম রয়েছে। মাইক বাজানো নিয়েও কড়া বিধিনিষেধ থাকার কথা। ফলে বড় কোনও সভার অনুমতি পাওয়া নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই জানুয়ারি মাসের মধ্যেই বঙ্গ সফর সেরে ফেলতে চাইছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিজেপির অন্দরমহলে এটাকেই ‘স্ট্র্যাটেজিক টাইমিং’ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) দেখানো পথে এবার হাঁটতে পারেন অমিত শাহ। দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত, কলকাতায় সাংগঠনিক বৈঠকের পর উত্তরবঙ্গ (North Bengal) সফরে যেতে পারেন তিনি। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গ বিজেপির জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। সেখানে সংগঠনের ভিত মজবুত হলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানো সম্ভব হলেও হতে পারে।
রাজ্য বিজেপির অন্দরেই স্বীকার করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় নেতৃত্ব ও সংগঠনের মধ্যে কিছু জায়গায় অসংগতি তৈরি হয়েছে। ভোটের আগে সেই ফাঁকফোকর বন্ধ করা শাহের মূল লক্ষ্য। কে কোন দায়িত্বে থাকবেন, কার উপর কতটা ভরসা রাখা হবে, নির্বাচনী প্রচারের ভাষা কী হবে—এই সব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে এই সফরের বৈঠকগুলির শেষে।